গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করোতোয় নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ ও নদীসংলগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকা।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একই স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে মাটি সড়ে গিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ কাটাখালী ব্রিজসহ দুটি বিদ্যুতের পোল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিজটি বিধ্বস্ত হলে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ আট জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।
স্থানীয় মোশারফ হোসেন জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর সংলগ্ন তাজপুর, উত্তর ফুলবাড়ী, চণ্ডিপুর ও সমসপাড়াসহ ঐ এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে পরেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাটাখালী ব্রিজসংলগ্ন পূর্বপাশে করতোয়া নদীতে সারিবদ্ধ প্রায় ১০টি ড্রেজার মেশিন নদীতে বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। এ সময় সাক্ষাৎ হয় ফুলবাড়ী গ্রামের ড্রেজার মেশিনের মালিক চান মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। ২০১০ সালের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা তত্সহ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার নামে থানায় মামলা রয়েছে মর্মে স্বীকার করে তিনি জানান, এ মামলায় জামিন নিতে অনেক টাকার দরকার। এ জন্য অবৈধ হলেও প্রায় সবার সঙ্গে কথা বলে পুনরায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর ভূগর্ভ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে গত সাড়ে তিন মাসে আটটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ৯ জনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি ইজার উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের গ্রেফতারে জোর তত্পরতা চলছে।