কামরাঙ্গীরচরে হেলে পড়েছে ৬ তলা ভবন

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় একটি ৬ তলা ভবন হেলে পড়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুরের দিকে কামরাঙ্গীরচরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাঘাট এলাকায় কাজী বাড়ি রোডের ছয় তলা বিশিষ্ট ভবনটি হেলে পড়ে।

 

 

জানা গেছে, ভবন মালিকের নাম আব্দুল কাদের। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় ছোট ভাই আব্দুস সামাদ কেয়ার টেকার হিসেবে বাড়িটির দেখাশুনা করতেন। চার মাস আগে এক কাঠা জমির উপর নির্মিত ৬ তলা ভবনটি কাদের ক্রয় করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মড় মড় শব্দ করে ভবনটি ঝাঁকুনি দেয়। এরপর বাড়ির ভাড়াটিয়ারা ভবনটি হেলে পড়ার বিষয়টি টের পেয়ে সবাই দ্রুত নিচে নেমে পড়ে। ভবন হেলে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা এসে ভবনটি পরিদর্শন করেন এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।

 

কেয়ারটেকার আব্দুস সামাদ বলেন, তার বড় ভাই আব্দুল কাদের চার মাস আগে শাহিন নামে একজনের কাছ থেকে ৮৮ লাখ টাকায় ভবনটি ক্রয় করেছেন। এটি এক কাঠা জমির উপর ৬ তলা ভবন। যদিও ৬ তলার কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বড় ভাই অসুস্থ থাকায় তিনিই ভবনটির দেখাশোনা করেন। ভবনের নিচতলায় টেইলারিংয়ের কারখানা এবং প্রতিটি ফ্লোরে চারটি করে পরিবার থাকতো।

 

তিনি আরও বলেন পুলিশ তাদেরকে জানিয়েছে— সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ভবনটি পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা বসবাসের উপযোগী কিনা জানালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন : মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে পলাশকে ডিভোর্স দেন সিমলা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’ থেকে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

 

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি শাহিন ফকির বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে হেলে পড়া ভবন ও আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। সিটি করপোরেশন তাকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে। তারা ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি