এলেঙ্গা হাইওয়েতে পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজি

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়েতে পুলিশ টোকেনের মাধ্যমে মহাসড়কে প্রকাশ্যে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গাড়ির মালিক ও চালকরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, মামলার ভয় দেখিয়ে ও কাগজপত্র দেখার নামে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা ও প্রতিদিন চাঁদা নিচ্ছে। এ ঘটনায় যানবাহনের মালিক ও চালকরা অসহায়ত্বের কথা বললেও চাঁদার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা। 

জানা যায়, উত্তরবঙ্গসহ ২৩ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় স্থাপিত হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে করটিয়া বাইপাস পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ লিংকরোড থেকে কালিহাতীর দিকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত মহাসড়কে তাদের কার্যপথ। এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৪-১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা রোধ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধ করা এ ফাঁড়ির পুলিশের প্রধান কাজ। কিন্তু তারা নিজেরাই চাঁদাবাজিতে বেশি ব্যস্ত থাকতে থাকে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির চাঁদাবাজি নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে যানবাহনের মালিক, শ্রমিকরা। তারা দিন-রাত সমানতালে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।

মালিক চালকদের অভিযোগ, ‘সন্ধ্যার পর টহলের নামে পুলিশের চাঁদাবাজি ভয়াবহ রূপ নেয়। দূরের মালবাহী ট্রাক ছোট, ছোট পিকআপ টাকা না দিলে রেহাই নেই। মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও টোকেনের মাধ্যমে ফাঁড়ির পুলিশ নিয়মিত চাঁদা নিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়।’

ভুক্তভোগিরা আরো জানান, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী-এলেঙ্গা রিসোর্টের উত্তরপার্শ্বে ময়মনসিংহ লিংকরোডের রাজাবাড়ী মোড়, পৌলী বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পার্শ্বে, জালদো ব্রিজের দক্ষিণের ঘাড়িতে, রসুলপুর এবং ঘারিন্দাসহ কয়েকটি পয়েন্টে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি করে থাকে। অন্যদিকে কাগজপত্র বিহীন যানবাহনগুলো ধরে ফাঁড়িতে এনে মামলা না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাকিয়ে নেওয়া রুটিনে পরিণত হয়েছে।’

এর আগে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সাবেক ইনচার্জ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির বিষয়টি বেশ কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় সংবাদ হয়। পরে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ চান্দিনায় নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান দুই দিনেও মেলেনি

এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাসুদেব সিহনা বলেন, ‘আমাদের হাইওয়ে পুলিশ কোন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়।’

ইত্তেফাক/নূহু