বন্ধ ঢাকাগামী বাস চলাচল

মাদারগঞ্জে বাসচালককে মারধরের পর ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০২:০৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে রাজিব পরিবহনের এক বাসচালককে কাউন্টার মাস্টারের মারধর এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকেরা।

আকস্মিকভাবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানী অভিমুখী শত শত সাধারণ যাত্রী চরম ও অসহনীয় ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এনপুর বাজারে পৌঁছালে পূর্বের একটি টিকিট ও শিডিউলসংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ও রহমতুল্লাহ মিলে বাসের চালক মমিনুলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে চড়থাপ্পড় মারেন এবং বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

এ সময় মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বিজয় আহমেদ ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে বাসের সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এই নিয়ে সেখানে উপস্থিত গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে ছাত্রদল কর্মী বিজয়ের তীব্র কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি নেতা সোহেল রানা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদল নেতা বিজয়কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত অবস্থায় ছাত্রদল কর্মী বিজয়কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে তার শরীরে গভীর ক্ষত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এদিকে ঘটনার পরপরই রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জোড়খালী এনপুর বাজারে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনগণ। ঘটনার খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘শনিবার রাতে নির্ধারিত সময়ে রাজিব পরিবহনের ওই বাসটি কাউন্টারে না আসায় আমার টিকিট কাটা যাত্রীদের বিকল্প অন্য বাসে ঢাকা পাঠাতে হয়েছিল। পরে রাত দেড়টার দিকে বাসটি পৌঁছালে সুপারভাইজার আমাকে কল দিলে আমি ঘটনাটি জানাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যাত্রী না পাওয়ার সুবাদে বাসচালক মমিনুল ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। সেই গালাগালির জবাব নিতে আজ সন্ধ্যার দিকে বাসচালকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সে উল্টো আমাকে ধাক্কা মারে। আত্মরক্ষার্থে তখন আমি তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছি, তবে এর পরবর্তী রক্তক্ষয়ী ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে দাবি করেন, ‘কাউন্টার মাস্টারের সঙ্গে বাসচালকের মারামারির কারণে বাসটি প্রধান সড়কের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। আমি একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বাসটি রাস্তার সাইড করার জন্য বললে ছাত্রদল নেতা বিজয় আমার সঙ্গে চরম খারাপ ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে শত শত মানুষের সামনে আমাকে প্রকাশ্যে চড় মারে। বিজয় বয়সে আমার অনেক বছরের জুনিয়র হওয়ায় তার এমন ধৃষ্টতা ও থাপ্পড়ে আমি নিজের মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে কুপিয়েছি।’

মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শ্রমিক ও রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে আপাতত ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি ও বাস চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা হবে।’

ইত্তেফাক/এএম