ইয়েমেনের অধিকাংশ স্থান দখল করে নেয়া শিয়া হুতি বিদ্রোহী ও তাদের সহযোগী সেনাবাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে চালানো বিমান হামলা সমাপ্তির ঘোষণা দেয়ার ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার ফের হামলা শুরু করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। তায়েজ শহরের বাইরে আবদেরাব্বুহ মনসুর হাদির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সেনা ইউনিটের পতনের পর এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
গত মঙ্গলবারের ঘোষণায় বিমান হামলার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে দাবি করে এবার ইয়েমেন সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটি। সৌদি আরবের ফের এই হামলা সম্পর্কে ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।
সৌদি আরবের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৌদির সরে আসার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসাবে আখ্যায়িত করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। টুইট বার্তায় জারিফ বলেন, ইয়েমেনে অতিসত্বর মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। তাছাড়া দেশটিতে অভ্যন্তরীণ সংলাপের আয়োজন এবং ব্যাপকভিত্তিক সরকার গঠনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানান তিনি। এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ না করতে ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। হুতিদের ইরান সহায়তা দিচ্ছে বলে সুন্নি শাসিত সৌদি সরকার অভিযোগ করে। কিন্তু তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডিসাইসিভ স্টর্ম অভিযান লক্ষ্য অর্জন করেছে। সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি হুমকি প্রতিহত করেছে, বিশেষভাবে ভারী অস্ত্রের হুমকি। এতে বলা হয়েছে, হামলা বন্ধের পর নতুন পর্যায়ে “প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠার অভিযান” শুরু করা হবে। নতুন এই অভিযানে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা যুক্ত থাকলেও এতে “রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যা ভবিষ্যত্ ইয়েমেনকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ করবে” তার ওপর জোর দেয়া হবে। সৌদি প্রতিরক্ষা প্রধান জানিয়েছেন, এ সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান করার দিকেই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু তিনি বলেছেন, প্রয়োজন পড়লে সামরিক বল আবারো প্রয়োগ করা হবে।
মঙ্গলবার ইয়েমেনে হামলা বন্ধের সৌদি ঘোষণাকে স্বাগত জানায় হোয়াইট হাউসও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের (হোয়াইট হাউস) জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যালিস্টার বাস্কে বলেন, সৌদি আরব সরকার ও তার জোটের অংশীদারদের দেশটিতে ডিসাইসিভ স্টর্ম অভিযানের উপসংহার টানার ঘোষণাকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ অ্যাসেরি হুতিদের ওপর হামলা বজায় রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন। সৌদি রাজধানী রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, দেশটিতে হুতি বাহিনীর যে কোনো অভিযান চালানোর প্রচেষ্টা রুখতে তত্পর থাকবে জোট বাহিনী।