ইয়াবা ঠেকাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিল মিয়ানমার

ভয়াবহ নেশা ইয়াবার আগ্রাসন ঠেকাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের পূর্ব সীমান্তে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৯টি ইয়াবা কারখানার তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব কারখানা ধ্বংসের অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমার-বাংলাদেশ ডিজি মাদক পর্যায়ের দুইদিন ব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিনে এই অনুরোধ জানান হয়। সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সকাল দশটায় শুরু হয়ে চলে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত।

 
বৈঠকে উপস্থিত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আরো জানান, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্নভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ অন্যান্য নেশার সামগ্রী। ইতিমধ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিয়ে ধরা পড়েছে বেশ কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি। তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন তালিকা দেয়া হয়নি।
 
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) বজলুর রহমান। অপরদিকে মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেওয়াউন। বিজিবি, র্যাব, এনএসআই, পুলিশ, কোস্টগার্ড প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, আজ বুধবার বিকালে দ্বিতীয় পর্যায় বৈঠক বসবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তেজগাঁও প্রধান কার্যালয়ে। আজ সকালের দিকে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে দেখা করবেন। বিকালে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর প্রধান কার্যালয় যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরের পর পাঁচটার দিকে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করবে উভয় পক্ষ।
 

সূত্র জানায়, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক প্রবেশ বন্ধ ও চোরাচালান ঠেকাতে ১৯৯৪ সালে ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশ তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে মাদকপাচার রোধ করবে। কিন্তু চুক্তি হলেও মিয়ানমার তরফে পরবর্তীতে কোন ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার তাগিদ দেয়ার পর ২০১১ সালে ইয়াংগুনে দুই দেশের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, দু’দেশের কর্মকর্তারা প্রতিবছর একবার মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার রোধে বৈঠকে করবে। সে ধারাবাহিকতাও পরে রক্ষা হয়নি।