দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছর পর বাস্তবায়িত হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পর গতকাল ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় ভারতের অনেক রাজনীতিক ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৃঢ় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত আসামকে রেখেই পূর্ণাঙ্গ স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হয়েছে মোদী সরকারকে। কারণ আসাম বিজেপির আপত্তির কারণেই আসামকে বাদ রেখে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল রাজ্যসভায় তুলতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও কংগ্রেসের আপত্তির মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে। কংগ্রেসের এই দৃঢ় অবস্থানের পেছনে কাজ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস শক্ত অবস্থান না নিলে চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জাল ছিন্ন করা কঠিন হতো।
১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনো অগ্রগতি আসেনি। এরপর ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করা হয়। ঐ প্রটোকল স্বাক্ষরের পর চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যক্রমে গতি আসে। এর পেছনে সোনিয়া গান্ধীর আগ্রহ কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, এ চুক্তির বাস্তবায়নে প্রথমদিকে বিরোধিতা করলেও ষে পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি তার মত পরিবর্তন করে এ বিল পাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। যে কারণে রাজ্যসভায় অনায়াসে পার পেয়ে গেছে সংবিধান সংশোধনী বিল।
মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সংশোধনী বিল অনুমোদনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, তার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির সমর্থন দিয়েছে। কারণ, সাধারণ মানুষ এ চুক্তির বাস্তবায়ন চায়। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান মমতা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। জনগণ এর পক্ষে থাকাতেই আমরা বিলে সমর্থন দিচ্ছি। এমন নয় যে আমরা জনগণের ওপর তা চাপিয়ে দিচ্ছি।