ক্যামেরনই থাকছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরন পাঁচ বছর মেয়াদে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচনে তার দল অপ্রত্যাশিতভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

 
জয়ের পর ক্যামেরন বলেছেন, কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটা কনজারভেটিভদের জন্য ‘মধুরতম বিজয়’। তিনি সবস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এবং ব্রিটেনকে অখণ্ড রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ২০১০ সালে লিবারেল ডেমোক্রাটসের সাথে কোয়ালিশন করে ব্রিটেনের দুশ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে এবার কোনো জোট ছাড়াই তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
 
এদিকে, বিরোধী দল লেবার পার্টির ভরাডুবির দায় স্বীকার করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এড মিলিব্যান্ড। তিনি এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেছেন, ‘এটা খুবই সত্য যে লেবার পার্টির জন্য এটা চরম পরাজয়। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। দলের এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। লেবার দলের নতুন কোন যোগ্য নেতার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী যাতে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন সেজন্যই আমি পদত্যাগ করছি।’
 
তিনি বলেন, ‘আজকের দলের এই মহাবিপর্যয়ের নিরঙ্কুশ দায় এবং ব্যর্থতা সম্পূর্ণ আমার। আমার সহকর্মী যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের কাছে আমি লজ্জিত ও অত্যন্ত দুঃখিত।’              তবে এবারে দেশের উত্তরে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৫৯টি আসনের মধ্যে ৫৬টিতেই জয়ী হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির একটা শক্ত ঘাঁটি ছিল স্কটল্যান্ড। লেবার পার্টি ইংল্যান্ডেও নতুন আসনে জিততে ব্যর্থ হয়েছে। গত পাঁচ বছর কনজারভেটিভের জোটসঙ্গী লিবারেল ডেমোক্রাট দলেরও এই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। তারা মাত্র কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের নেতা নিক ক্লেগও গতকাল পদত্যাগ করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বেড়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব। এবার লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও ড. রূপা আশা হক জয়ী হয়েছেন।
 
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ব্রিটেনের মোট ৬৫০ আসনের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টি ৩৩১ আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। সরকার গড়তে তাদের দরকার ছিলো ৩২৬ আসন। বিশাল জয় পাওয়ায় এককভাবে সরকার গঠন করতে আর তাদের কোনো বাধা থাকল না।
 
এবারের কঠিন পরীক্ষার নির্বাচনে গত বছরের চেয়ে কনজারভেটিভরা ৩৪টি আসন বেশি পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে দলটির ভোট বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। মোট ভোটের ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ পেয়েছে কনজারভেটিভ। অপরদিকে লেবার পার্টি ২৩২ আসনে জয় পেয়েছে। এ দলটি গত নির্বাচনের চেয়ে ২৬টি আসন কম পেয়েছে। মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ পেয়েছে দলটি।
 

স্কটিশ দল পেয়েছে ৫৬ আসন। লিব ডেম পেয়েছে ৮ আসন এবং অন্যরা জয়ী হয়েছে ২৩ আসনে। ইউকিপ ভোট পেয়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, লিব ডেম পেয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। স্কটিশ দল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ও গ্রিন পার্টি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। লিব ডেমের মারাত্মক বিপর্যয়ের পর দলের প্রধান নিক ক্লেগ এবং ইউকিপর প্রধান নাইজেল ফারাজে নিজ আসনে হেরে গিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।