থাইল্যান্ডে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান

মানব পাচারের সাথে যুক্ত থাইল্যান্ডের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে সে দেশের পুলিশ। ইতিমধ্যে সেখানকার ৫১ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাদের। যেসব অপরাধী ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড থেকে পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেফতারে মালয়েশিয়ান সরকার ও ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

 
ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে মানব পাচারের সাথে যুক্ত যে ৫১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের ১৯ জনকে ইতিমধ্যে থাই পুলিশ আটক করেছে। বাকি ৩২ জন পলাতক। থাইল্যান্ডের উপ-পুলিশ প্রধান আয়েক এংসনানট জানিয়েছেন, শংখলা, সাতুন এবং রনং প্রদেশে সন্দেহভাজনদের ধরতে ব্যাপক      অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে মানব পাচারকারীদের ব্যবহূত ৭৪টি ক্যাম্পের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সাতুন প্রদেশের প্রশাসনিক সংস্থার সাবেক প্রেসিডেন্ট এলিয়াস কো টং-এর বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে তিনি মানব পাচারে নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
এদিকে অপরাধীদের শুধু গ্রেফতারই নয়, তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করছে থাইল্যান্ডের পুলিশ। এর মধ্যে গহীন জঙ্গলের একটি ক্যাম্প থেকে এক কোটি বাথ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পাচার কাজে ব্যবহূত নৌকা, কয়েকটি গাড়ি, স্পিডবোটও আটক করা হয়। কয়েকজন সন্দেহভাজনের জমি, হোটেল, বিভিন্ন অস্ত্রও জিম্মায় নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এসেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারের যেসব কর্মকর্তা মানব পাচারকারীদের সহায়তা করেছিলেন তাদের বরখাস্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
 
থাইল্যান্ডের রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল কালাম দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা ব্যাংকক পোস্টকে বলেছেন, মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের গহীন জঙ্গলে পাচারকারীদের ব্যবহূত অন্তত ৬০টি ক্যাম্প রয়েছে। যে কয়টি ক্যাম্পের সন্ধান মিলেছে তা প্রকৃত চিত্র নয়। এসব ক্যাম্পের প্রতিটিতে দেড়শ থেকে আটশ হতভাগ্য রয়েছে। তবে ক্যাম্পগুলোর অধিকাংশই মালয়েশিয়ার দিকে অবস্থিত বলে তিনি জানান।
 
দেশটির পুলিশ জেনারেল চাকথিপও এ তথ্য স্বীকার করে বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে দেখা যায় অধিকাংশ ক্যাম্পের অবস্থান থাই-মালয়েশিয়া বর্ডারে। লেফট্যানেন্ট জেনারেল প্রকারুন চললিউথকে মানব পাচারের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার আইন-শৃংখলা বাহিনী সে দেশের সীমান্তে টহল জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
 

একজন তুষারের গল্প:এদিকে রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম পাচারকারীদের শংখলা এলাকার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা তুষার নামে একজন বাংলাদেশির জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। তুষার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তাকে অপহরণ করে পাচারকারীদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নৌকায় তুলে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে থাইল্যান্ডে এসে তার স্থান হয় জঙ্গলে। একটি ক্যাম্পে অবস্থানের সময় তুষার সেখানকার ৪০ জনকে মৃত্যুবরণ করতে দেখেছেন। তাদের সবাই অপুষ্টিতে কিংবা পাচারকারীদের নির্যাতনে মারা গেছে। এদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশিও রয়েছে। তুষার আরো জানান, পাচারকারীরা বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে তার মায়ের কাছে ফোন করেছে। পাচারকারীরা যখন বুঝতে পারে তার মায়ের কাছে অর্থ নেই, তখন তাকে বেদম প্রহার করা হয়। তুষার এখন বাংলাদেশে ফিরে আসার আর্জি জানিয়েছেন।