সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র জেফ রাথকি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিহতদের স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার জড়িতদের খুঁজে বিচারের মুখোমুখি করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের সুযোগ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার ব্লগার অনন্ত হত্যাকাণ্ডের পর এক টুইটে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডব্লিউ গিবসন বলেন, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবশ্যই মত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে।
ব্লগার অনন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্লগার ও লেখক অভিজিত্ রায়ের হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ হত্যকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মাত্র এক মাস আগে ওয়াশিকুর রহমান নামে আরেক ব্লগার খুন হন। এসব ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অনলাইনসহ সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।
পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অনন্ত বিজয়ের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য জাতিসংঘ আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আগের ঘটনাগুলো তদন্ত দ্রুত করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্লগার হত্যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, নিষ্ঠুর এসব হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের দ্রুত সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে সুস্পষ্ট বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে ধর্ম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা সহ্য করা হবে না— এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।