১০ অভিবাসীর মৃত্যু, জীবন বাঁচাতে মূত্র পান

 
আন্দামান সাগরে একটি নৌকায় অবস্থানকারী মায়ানমারের শত শত অভিবাসী রোহিঙ্গার মধ্যে ১০ জন মারা গেছেন। লাশগুলো সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে। খাদ্য ও পানির অভাবে প্রাণ বাঁচাতে বাকিরা বাধ্য হয়ে নিজেদের মূত্র পান করছেন। বৃহস্পতিবার এমন তথ্যই জানিয়েছে বিবিসি।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছ ধরার ঐ নৌকায় আরো ৩৫০ জনের মতো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মিয়ানমার ত্যাগ করে। তার পর থেকেই সাগরে ভাসমান অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব ভাগ্য বিড়ম্বিতরা।
 
নৌকায় থাকা অভিবাসীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নৌকার নাবিকরা তাদের ফেলে রেখে চলে গেছেন। নৌকার ইঞ্জিনও বিকল করে দিয়েছে তারা। খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে এর মধ্যেই ১০ জন মারা গেছেন। তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে।
 
উন্নত জীবন ধারণের আশায় সাগর পাড়ি দেয়া অভিবাসীদের নৌকাগুলোকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া,  মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। ধারণা করা হচ্ছে বেশ কয়েক হাজার অভিবাসী মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের উপকূলে নৌকায় আটকা পড়ে সাগরে ভাসছেন।
 
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, এই অবস্থা বর্ণনাতীত। নৌকায় থাকা অভিবাসীরা আমাদের কাছে খাদ্য ও পানি চাচ্ছে। সেখানে অনেক নারী ও শিশুও রয়েছে। পুরো নৌকা মানুষে ঠাসা।
 
তিনি আরো জানান, আমার দেখেছি নৌকায় থাকা অভিবাসীরা বোতলে ভরে নিজের মূত্র পান করছে। আমরা তাদের পানি বোতল ছুড়ে দিয়েছি। এছাড়াও আমাদের কাছে যা ছিল সব দিয়েছি।
 
বিবিসির সংবাদদাতা জানান, রোদের হাত থেকে বাঁচতে তারা কম্বল বেঁধে ছায়া তৈরি চেষ্টা করছে। সেখান তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
 
মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় গত দুই মাস থেকে সাগরে ভাসছেন এসব অভিবাসী।  নৌকার নাবিক তাদের ত্যাগ করার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল থাকা নৌকাটির যাত্রীদের অবস্থা শুধু খারাপের দিকেই গেছে। এখন তারা থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর দ্বারা উদ্ধার হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুণছেন।