খুব শীঘ্রই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) হটিয়ে রামাদি শহর পুনর্দখল করা হবে। এক সাক্ষাত্কারে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি একথা জানিয়েছেন। তবে এটি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জোটের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীর যুদ্ধ করার ইচ্ছেতে ঘাটতি রয়েছে- রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টারের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আবাদি।
প্রধানমন্ত্রী আবাদি বলেছেন, তিনি রামাদির পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, রামাদিকে হারিয়ে আমার হূদয় থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কিন্তু আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি শীঘ্রই আমরা শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবো। তিনি আরো বলেন, আমরা সিরিয়া-ইরাক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। তাই সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ শক্ত করতে আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী জোটগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া রামাদি থেকে যেসব লোকজন পালিয়ে গেছে, তারা সত্যিই মানবিক সমস্যায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরাক সরকার বর্তমানে ঐ অঞ্চলে আইএসের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিয়া আধা সামরিক বাহিনী (মিলিশিয়া) মোতায়েন করেছে। শনিবার এই আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রামাদির পূর্বাঞ্চলীয় হুসাইবা আল-শারকিয়া শহরটি পুনরায় দখল করে। এটি আনবার প্রদেশের রাজধানী। রবিবারও আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের প্রচণ্ড লড়াই হয়।
২০১১ সালের পর থেকে মার্কিন যুদ্ধসেনারা ইরাক থেকে চলে যেতে শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক বছরে ইরাকি বাহিনী আইএসের কাছে বেশ কয়েক দফা লড়াইয়ে হেরে যায়। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বলছেন, আইএস এখন সিরিয়ার ৫০ ভাগ অংশ ও ইরাকের এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
সিএনএন’র স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার বলেন, ইরাকি বাহিনীর সদস্য সংখ্যা রামাদিতে আইএস’র চেয়ে অনেক বেশি ছিল। কিন্তু এরপরও ইরাকি বাহিনী তাদের অবস্থান ছেড়ে দেয় এবং আইএসকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই অবস্থাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। আইএস যোদ্ধারা রামাদি দখলের পরিপ্রেক্ষিতে কার্টার এই মন্তব্য করেন। ওদিকে কার্টারের এ মন্তব্যের বিষয়ে আবাদি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যে আমি বিস্মিত হয়েছি। তিনি ইরাকের ভাল বন্ধু, তবে তাকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করছি। তিনি বলেন, আমাদের বাহিনীর লড়াই করার আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু যখন আইএস জঙ্গিরা ট্রাক ট্রাক অস্ত্র, বিস্ফোরক নিয়ে আক্রমণ করে সেটা আমাদের সৈন্যদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব অস্ত্র যেন একটি ক্ষুদ্র পরমাণু বোমার ভাণ্ডার।
এছাড়া ইরাকের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কমিটির প্রধান কার্টারের এই মন্তব্যকে ‘অবাস্তব ও ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ওদিকে লেবাননভিত্তিক শিয়া হিজবুল্লাহ আন্দোলনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, আইএস এবং সিরিয়ায় যুদ্ধরত সুন্নি জঙ্গি সংগঠনগুলো বিশ্বের জন্য এখন এক নজিরবিহীন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এই প্রথম তিনি স্বীকার করেন, হিজবুল্লাহ প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে যুদ্ধ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার অর্ধেক অংশই এখন আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
-বিবিসি ও রয়টার্স