গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১০ মাস ধরে আটক ইরানে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জেসন রেজাইয়ানের বিচার শুরু হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে এ মামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক জেসানের সর্বোচ্চ ২০ বছরের জেল হতে পারে।
জেসান ২০১২ সাল থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে তেহরান ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শত্রুর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও তথ্য পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিচার শুরুর ব্যাপারে ইরান সরকার কোনো মন্তব্য না করলেও এর তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক মার্টিন ব্যারন বলেছেন, জেসনের চিকিৎসা শেষ না করেই এ ন্যাক্কারজনক বিচার শুরু হলো। এর ফলে একজন নির্দোষ মানুষের প্রতি অবিচার করা হবে। তিনি এ বিচার বন্ধেরও জোরালো দাবি জানান।
জেসনের সহকর্মী ও ওয়াশিংটন পোস্টেও পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ইরানের একটি নিম্নমানের কারাগারে তাকে একা আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাকে তার আইনজীবীর সঙ্গে মাত্র দেড় ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনজীবী তার বিরুদ্ধে কোনো উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেননি বলে তাদের অভিমত।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানে আটক জেসানের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, হোয়াইট হাউজ তাকে নিরাপদে ঘরে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত থামবে
না।
উল্লেখ্য, এমন এক সময় এই বিচার কাজ শুরু হলো যখন ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর পরমানু আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতে তাই জেসানের এই বিচারকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক বিশ্লেষক।