যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে ঝড়ে ৩১ জনের মৃত্যু

ঝড়ের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর সিএনএন। 
 
এদিকে মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণের কারণে টেক্সাসের মধ্যাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। হিউস্টনের মেয়র আরো ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সতর্ক থাকার জন্য স্থানীয়দের আহবান জানিয়েছেন।
 
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য টেক্সাস ও ওকলাহোমায় ১৮ জন এবং মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিগত কয়েক দিন ধরে টর্নেডোসহ বৈরী আবহাওয়া ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশ দুটিতে বেশ কয়েকজন নিখোঁজে আছেন।
 
টেক্সাসের হিউস্টন নগরীতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ১০ ইঞ্চির বেশি (২৫ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিগত ১০ বছরের মধ্যে এটাই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের ঘটনা।
 
হিউস্টনের রাস্তাগুলোতে কয়েকশ গাড়ি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলোর কোন কোনটি সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবে গেছে। বহু মানুষ তাদের গাড়িতে আটকা পড়েছে। অনেকের বাড়ির চারপাশে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় তারাও আটকা পড়েছে। খবর এএফপি’র।
 
মেয়র অ্যানিস পারকার জানান, গত রাতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আমি মানুষকে নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। রাতে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আমি তাদের সাবধান করে দিচ্ছি।
 
তিনি  জানান, জরুরি কর্মীরা পরিত্যক্ত যানবাহনগুলোতে কেউ আটকা পড়ে আছে কিনা তা দেখতে সেগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।চলতি সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা আবারও প্রাণনাশকারী বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
 
মেয়র বলেন, যদি আপনি নিচু এলাকার বাসিন্দা হন, তবে সপ্তাহান্তে আবারও আকস্মিক বন্যার ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক করছি। আপনারা উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিন। এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন।
 
স্টেডিয়ামে পানি উঠে গেলে একটি এনবিএ ম্যাচ দেখতে আসা প্রায় ২০০ দর্শক কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। এদের অনেকে টয়োটা সেন্টার অ্যারিনায় রাত কাটাতে বাধ্য হয়।
 
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেক্সাসের এই বন্যাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তিনি রাজ্য গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোটকে জরুরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
 
টেক্সাসের উত্তরে ওকলাহোমায় আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। হেইস কাউন্টিতে সপ্তাহান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একটি বাড়ি ধসে পড়লে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়।
 
সোমবার সিউদাদ অকুনায় ছয় সেকেন্ড স্থায়ী ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশ বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
 
টর্নেডো ঘণ্টায় ২৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার (১৬৮ মাইল থেকে ১৮৬ মাইল) বেগে বয়ে যায়। এ সময় বাবা-মার কাছ থেকে একটি শিশুকে ঝড়ো হওয়া উড়িয়ে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া যায়।
 
ফেডারেল সরকার জানায়, টর্নেডোর আঘাতে ২৪৭টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরো ৪৫০টি বাড়ির ক্ষতি হয়েছে।