মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনা অভিযান নিয়ে ভারত-পাকিস্তান একে অপরকে হুঁশিয়ারি ও পাল্টা-হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, ‘ভারতের মনে রাখা উচিত—পাকিস্তান মিয়ানমার নয়।’ খবর বিবিসির।
সম্প্রতি মিয়ানমারের ভেতরে ভারতীয় সেনাবাহিনী কমান্ডো অপারেশন চালিয়ে বিদ্রোহীদের দুটো ক্যাম্প ধ্বংস এবং শতাধিক জঙ্গিকে হত্যার দাবি করে। গত ৪ জুন মনিপুরে বিদ্রোহী জঙ্গি গ্রুপগুলোর হামলায় ডোগরা রেজিমেন্টের ২০ সদস্য নিহত হন। এর বদলা হিসেবেই ওই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এরপর প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোতেও প্রয়োজনে অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দেয় ভারত।
এ রকম প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলি খান বলেন, ‘ভারতের এটা মনে রাখা উচিত—পাকিস্তান মিয়ানমার নয়। তারা যেন পাকিস্তানে এ ধরনের অভিযানের কথা কল্পনাও না করে।’
এর জবাবে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রিকর বলেন, ‘এ অভিযানে যারা ভয় পেয়েছ, তারাই প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে।’
দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এই হুঁশিয়ারি-পাল্টাহুঁশিয়ারি দিলেও মিয়ানমারের মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা কি পাকিস্তানে আদৌ করা হতে পারে, কতটা বাস্ত হবে সেই পরিকল্পনা—এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে কে চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযানের ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। তার কৌশলও যেমন বাহিনীর জানা আছে, তেমনই অস্ত্র বা অন্যান্য উপকরণও মজুত রয়েছে। কিন্তু ভারত যদি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে এ ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তত্ক্ষণাত্ পাকিস্তান যে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। গোটা পশ্চিম সীমান্তজুড়েই আবার শুরু হবে গোলাগুলি।’
অনেক বিশ্লেষক বলছেন—ভারতের রাজনীতিবিদরা মূলত বিজেপি নেতারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনর্থক পাকিস্তানের প্রতি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এমনকি তারা এ অভিযানের কথা ফলাও করে প্রচার করে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মিয়ানমারকেও।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে—তাদের সেনাবাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় সেনারা সীমানা পার হয়নি, অভিযানটা হয়েছে ভারতের সীমান্তের মধ্যেই।