যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে পালিয়েছেন। বশিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পর ‘সাউথ আফ্রিকান লিটিগেশন সেন্টার’ এর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রিটোরিয়ার হাইকোর্ট দেশ ত্যাগে বশিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
রবিবার হাইকোর্টের এক জন বিচারক তাকে গ্রেফতারের আবেদন বিবেচনা না করা পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়তে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। আইসিসিতে তার বিরুদ্ধে সুদানে দারফুর সংকটের সময় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন ওমর আল-বশির। যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে না কি আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে হস্তান্ত করা হবে তাও বিবেচনা করছিল দেশটির আদালত।
আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। আদেশ পালনের জন্য তাদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপরই নির্ভর করতে হয়। এতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দেশে বশির পা ফেলামাত্র তাকে গ্রেফতারের বাধ্য বাধকতা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বশিরের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তার বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। গত কয়েক বছরে তিনি আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ছাড়া অন্য কোথাও যাননি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০০৩ সালে শুরু হওয়া সহিংসতায় সুদানে প্রায় তিন লাখ মানুষ নিহত ও প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
সুদানে ফেরার পর সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে ওমর আল-বশিরের।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ওমর আল-বশির। এরপর তিনটি নির্বাচনের সবগুলোতেই তিনি জয়ী হন।