মিয়ানমারের মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছে। আর দারিদ্র্যের কারণে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে পাচারকারীদের হাতে পড়ছে বাংলাদেশিরা। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় ‘অভিবাসীদের মানবাধিকার’ শীর্ষক জুন মাসের আলোচনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাআ’দ আল হুসেন এ কথা বলেন।
হুসেন বলেন, অনেক বছর ধরেই মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ছেড়ে আসা মানুষ পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছে। ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পাশবিক সংঘাত আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে অবৈধ অভিবাসনের সংকট তৈরি হয়েছে। নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। বঞ্চনা এবং হতাশাও মানুষকে অভিবাসনে বাধ্য করছে। জেইদ রাআ’দ আল হুসেনকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত দেশটির সংখ্যালঘু ১৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান। বাসস্থান, কৃষিজমির অধিকার, চাকরিসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হত্যা, গুম, গণগ্রেফতার, নির্যাতন ও যৌন নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানরা। হুসেন আশঙ্কা করেন নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবানদের দেয়া সামপ্রতিক বিবৃতির মাধ্যমে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।