ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শক্তিশালী ঘাঁটি ফালুজা থেকে পালানোর চেষ্টারত বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর জঙ্গিগোষ্ঠীটির সদস্যরা গুলি করছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ সংস্থা দ্য নরওয়েজিয়ান রিফুজি কাউন্সিল (এনআরসি। তারা যেসব পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারা বলেছে, ইউফ্রেতিস নদী পার হওয়ার চেষ্টা করলেই মানুষজনকে গুলি করে মারছে আইএস।
ফালুজার কাছে একটি শরণার্থী শিবির পরিচালনা করে এনআরসি। শহরটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আইএসের দখলে থাকা শহরটি পুনরুদ্ধারের জন্য গত মাসের শেষদিকে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী।
এনআরসি-র ইরাক শাখার পরিচালক নসর মুফলাহি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা দুঃখজনকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, বেসামরিক মানুষদের নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করা হচ্ছে।
এসব গুলিবর্ষণের পেছনে ‘সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলো’ রয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। সবকিছু পেছনে ফেলে শুধু জীবন নিয়ে যে সব নিরপরাধ পুরুষ, নারী ও শিশু পালাতে চাইছে, তাদের সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, তাই হচ্ছে।
রবিবার ইরাকি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ফাল্লুজাকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে, শুধু পশ্চিমে ইউফ্রেতিস নদীর পাড়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার সহায়তায় সর্বশেষ ফালুজার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা নাইমিয়াহ এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকি সরকারি বাহিনী। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি গেল সপ্তাহে জানিয়েছেন, ফালুজায় আটকা পড়া বেসামরিকদের রক্ষায় সরকারি বাহিনীর অভিযানের গতি শ্লথ করা হয়েছে। অন্যান্য ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফালুজার কেন্দ্রস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টারত সরকারি বাহিনী আইএসের তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে।
বাগদাদের মাত্র ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফালুজা ২০১৪ সালের শুরু থেকে আইএসের দখলে আছে। ইরাকের যে দুটি শহর এখনও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে বজায় আছে ফালুজা তার অন্যতম। ফালুজার আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান শাকির আল এসাবি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মানুষ-জন ফ্রিজ, কাপবোর্ড ও পিপায় চড়ে ইউফ্রেতিস নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। আল জাজিরা।