পাপুয়া নিউগিনিতে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, নিহত ৪

পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) রাজধানী পোর্ট মোরেসবিতে পার্লামেন্টমুখী ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে অন্ততপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবারের এ ঘটনায় আরো প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্রগুলো। পুলিশের গুলিবর্ষণের পর শহরজুড়ে দাঙ্গা, লুটপাট ও গুলিবর্ষণ ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 
 
অস্ট্রেলিয়ার উত্তরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে গভীর রাজনৈতিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নেইলের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
 
পোর্ট মোরেসবির ওয়াইগানি ক্যাম্পাসে প্রতিবাদরত ছাত্র ও জনতাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। আহত ছাত্রদের একটি দলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হাসপাতালের এক কর্মকর্তা টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “পোর্ট মোরেসবি জেনারেল হাসপাতালের বাইরে জনতার সঙ্গে পুলিশের বিরাট মারামারি চলছে। গোলাগুলিও চলছে, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে।”
 
হুবার্ট নামানি নামের এক আইনজীবী ও ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে এবং লোকজন রাস্তা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পোর্ট মোরেসবি থেকে টেলিফোনে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। লোকজন দাঙ্গাবাজির পাশাপাশি লুটপাটও করছে। পুলিশ সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।”
 
পরে তিনি জানান, হাসপাতালের ভিতরে প্রতিবাদকারীরা আশ্রয় নেওয়ায় এবং বাইরে পুলিশ অবস্থান নেওয়ায় একটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
 
ছাত্রদের প্রতিবাদের অন্যতম নেতা নোয়েল আনজো জানান, ছাত্ররা ক্যাম্পাস থেকে পার্লামেন্ট ভবনে যাওয়ার পরিকল্পনা করে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল, কিন্তু পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ। “আমাদের পরিকল্পনা পুলিশের পছন্দ হয়নি। তারা ছাত্রদের লাঞ্ছিত করতে শুরু করে, তাদের ঘুষি মারে, রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে এরপর গুলি করতে শুরু করে,” বলেন আনজো। “গুলি শুরু হলে ছাত্ররা চারদিকে ছিটকে গিয়ে আড়াল নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু এরমধ্যেই আমি বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আঘাত পেতে দেখেছি,” বলেন তিনি। এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিভাবে পোর্ট মোরেসবি পুলিশের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি।
 
 পোর্ট মোরেসবি জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক রিচার্ড সানাকা জানিয়েছেন, ২০ জন আহত ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড় একটি ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, পিএনজির ওয়াইগানি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লিনিক থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে তারা জেনেছেন, অন্তত ১৫ জন ছাত্র আহত হয়েছেন এবং চারজন নিহত হয়েছেন।