পাকিস্তানে দাঙ্গার সহিংসতা ভুলতে খ্রিস্টানদের জন্য চার্চ নির্মাণ করছে মুসলিমরা

পাকিস্তান নিয়মিত ধর্মীয় সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারে জন্য শিরোনাম হয়। কিন্তু দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের খ্রিস্টান ও মুসলমানরা একে অপরের প্রতি হৃদ্যতা ও সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ।
 
প্রদেশের গোজরা অঞ্চলের একটি গ্রামে দরিদ্র কৃষকেরা তাদের আয় থেকে কিছুটা হলেও জমাচ্ছে-তাদের লক্ষ্য প্রতিবেশী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রার্থনার জন্য চার্চ নির্মাণে তাদের সাহায্য করা।
 
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গোজরায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর ধর্মীয় হামলার ঘটনা ঘটে, আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় তাদের চার্চ ও ঘরবাড়ি। ওই হামলায় ১০জন নিহতও হয়। এই গ্রামের মানুষেরা সেই সহিংস ঘটনা ভুলেনি। কিন্তু তারা দেখিয়ে দিতে চায় ব্যক্তিগত ভালোবাসা সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে হারিয়ে দিতে পারে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা ইজাজ ফারুক সেই গ্রামের বাসিন্দা এবং চার্চ নির্মাণের উদ্যোক্তাদের একজন।ফারুক আশা করছেন এই চার্চ নির্মাণের পর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা এক সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারবেন, এক সঙ্গে প্রার্থনা করতে পারবেন। খ্রিস্টান প্রতিবেশীরা যেন একসাথে প্রার্থনা করতে পারেন এই লক্ষ্যেই চার্চ নির্মাণ শুরু করেন মুসলিম কৃষকেরা।
 
ইজাজ ফারুক বলেন, গোজরা দাঙ্গার পর আমরা সবাইকে আরও বেশি কাছাকাছি আনার চেষ্টা করছি। এই চাচ নির্মাণের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই যে একটা সম্প্রদায়ের মতো আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
 
IMG0
 
স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ফারইয়াল মসিহ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি ধর্মের উপরেও আছে বন্ধুত্ব। এই গ্রামের খ্রিস্টান অধিবাসীদের জন্য আলাদা কোনও বাড়ি নেই, তারা মুসলিম প্রতিবেশিদের সাথেই বাস করে। আমার জন্মের পর থেকেই দেখছি আমরা একসাথে বাস করছি ভালোবাসা নিয়েই। একে অপরের বিয়ে উৎসবে যোগ দিচ্ছি। আমরা সুখ-দুঃখ একে অপরের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। গোজরায় যা ঘটেছিল তার যেন পুনারবৃত্তি না হয় আমি সেই প্রার্থনাই করি। বিবিসি।