যুক্তরাষ্ট্রের অরলান্ডোতে সমকামীদের ক্লাবে কথিত ইসলামিক স্টেটের হামলায় নিহত ৫০ জনের একজন এডি জাস্টিস মৃত্যুর আগে তার মাকে বেশ কয়েকটি এসএমএস পাঠিয়ে ছিলেন। সেই এসএমএস গুলোয় হামলার সময়ের ভয়ঙ্কর ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যটা ফুটে উঠেছে।
শনিবার হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে মা মিনা জাস্টিসকে পাঠানো প্রথম এসএমএসটি ছিল, মা আমি তোমাকে ভালোবাসি। পরের মেসেজটি ছিল, ক্লাবে তারা গুলি করছে। পালস নামের সমকামীদের সেই ক্লাবে রবিবার সকাল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে ছিলেন এডি। মিনা ঘুমিয়ে ছিলেন কিন্তু মেসেজ টোনে ঘুম থেকে উঠেন। এরপর সন্তানকে এসএমএস পাঠান, তুমি ঠিক আছোতো?
এডি পরের এসএমএসে লিখেন, বাথরুমে আটকে আছি। এরপর মা মিনা পাগলের মতো এসএমএস পাঠাতে থাকেন, সন্তানকে আশ্বস্ত করেন যে পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে এডি এসএমএস পাঠান, সে (হামলাকারী) আসছে, আমি মরে যাবো।
পেশায় অ্যাকাউনটেন্ট সন্তানকে মিনা জিজ্ঞেস করেন, কেউ মারা গেছে কী না? তখন এডি বলেন, হ্যাঁ অনেকে। তিনি সন্তানকে জিজ্ঞেস করেন, হামলাকারী কী বাথরুমে আছে কী না? জবাবে এডি বলেন, সে একজন সন্ত্রাসী। তার শেষ এসএমএসটি ছিল, হ্যাঁ। অর্থাৎ হামলাকারী বাথরুমে আছে।
এরপর আর সন্তানের কোনো সাড়া পাননি মিনা। পুলিশের তালিকায় নবম নিহতের নাম হিসেবে উঠে আসে এডি জামোলড্রয় জাস্টিসের নাম।
ওমর মতিন নামের আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অরল্যান্ডোর সমকামীদের ক্লাব পালসে হামলা করে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৫৩ জন আহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিবিসি।