ব্রিটেনের গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষ এগিয়ে

 
ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা- না থাকার পক্ষে ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হলো । চলছে গণনা। এখন তার ফল পাওয়ার অপেক্ষা। 
 
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ইইউ ছাড়তে চাওয়া অংশ প্রত্যাশার চাইতে বেশি ভোট পাচ্ছে। ফলে ‘হ্যাঁ’ ‘না’-এর এই ভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কটা কী দাঁড়াবে তা জানতে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে।
 
বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের ইতিহাসে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তৃতীয় বারের মতো এ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২৮টি দেশের ইইউ জোটে যোগ দিতে ১৯৭৫ সালে গণভোটে অংশ নেয় ব্রিটেনের মানুষ। একই ইস্যুতে ৪১ বছর পর বৃহস্পতিবারের এ গণভোট দ্বিতীয় দফা।
 
ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় আসছে ধরে বিরোধী লেবার পার্টি তাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
 
এই ভোট প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। তবে ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় গেলেও তাকে সরকার প্রধানের পদে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন তার দলের ৮৪ এমপি। এদের মধ্যে ইইউ ছাড়ার পক্ষের নেতা বরিস জনসন ও মাইকেল গোভও রয়েছেন।
 
৩৮২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫০টির গণনা শেষে ‘বিচ্ছেদ’পন্থিরা এগিয়ে আছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
 
লন্ডনের বাইরের শহরগুলোতে ‘বিচ্ছেদ’পন্থিরা বেশি ভোট পাচ্ছে। এরই মধ্যে সাউথ স্ট্যাটফোর্ডশায়ার, ল্যাংকাস্টার, নিউয়ার্ক এন্ড শেরউড, সাউথ হল্যান্ড, প্লাইমাউথ, ব্ল্যাকবার্ণ-ডারওয়েনে বিচ্ছেদের পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
 
ইইউবিরোধীরা ওয়েলসেও ৫৪.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
 
স্কটল্যান্ডের গণনায় ইইউপন্থিরা এগিয়ে থাকলেও সেখানে ভোট পড়ার হার অনেক কম ছিল বলে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
 
উত্তর আয়ারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চললেও সেখানে ইইউপন্থিরা বিজয়ী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
ফলাফল ঘোষণার মধ্যে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দরপতনের খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। এরই মধ্যে মুদ্রার দর ৬ শতাংশ নেমে গেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
 
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
 
প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে- এ গণভোটে অংশ নিতে ৪ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন।