ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির রফতানি নিয়ন্ত্রণকারীদের ক্লাবে ভারত

ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলোর ক্লাব এমটিসিআর-এ (মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম) প্রবেশ করলো ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর সোমবার চুক্তিতে সই করেন।
 
এমটিসিআর এর সংস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিস্তার যেন বিনা বাধায় না হতে পারে। ফলে এমটিসিআর এর ৩৫তম সদস্য হিসাবে ভারত এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করলো।
 
এনএসজি বা নিউক্লিয়ার সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপে চীনের বাধার কারণে ভারত সদস্যপদ না পেলেও সেই চীনেরই এখানকার (এমটিসিআর) সদস্য পদ ঝুলে গেছে। সেসময়ে অনেক দেশ ভারতের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত বেইজিংয়ের বিরোধিতার কারণে তা হয়নি। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল ভারত যেহেতু এনপিটি বা পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিতে সই করেনি তাই তারা এর সদস্যপদ লাভে যোগ্য হতে পারে না। কেননা এনএসজির সদস্যপদ লাভে অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হচ্ছে এটি।
 
তবে এতোকিছুর পরও হাল ছাড়েনি ভারত। তারা এখনো তাদের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। এমটিসিআরের সদস্য পদ লাভের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যাবলীই বাস্তবায়িত হবে। বেশ কয়েক বছরের কূটনৈতিক চেষ্টার ফসল হিসাবে তাদের এই লক্ষ্য অর্জিত হলো।
 
বিবিসির প্রতিনিধি জানান, নতুন এই সদস্য পদ প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে আরো ভালো ভূমিকা পালন করতে পারবে। বিশেষ করে এনএসজিতে তাদের প্রবেশের যে পথ রুদ্ধ হয়েছিল সে ব্যাপারে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারবেন তিনি।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমটিসিআরে ভারতে অন্তর্ভুক্তির ফলে নয়াদিল্লির জন্য এক অর্থে ভালোই হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে এনএসজিতে সদস্য পদ নেওয়ার বিষয়ে দরকষাকষির সুযোগ হবে। কেননা ভারতের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বলা হয়েছে তারা এনএসজি ইস্যুতে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। সূত্র: বিবিসি