আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে গোহত্যার অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ

উত্তর প্রদেশের দাদরিতে বাড়িতে গোমাংস রাখার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত মোহম্মদ আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে এবার গোহত্যার অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। বিসাদা গ্রামের এক বৃদ্ধের অভিযোগ, আখলাকের পরিবারের লোকেরা একটি বাছুরকে হত্যা করেছেন। 
 
বৃহস্পতিবার সুরজপুরের একটি স্থানীয় আদালত গ্রেটার নয়দা পুলিশকে মোহাম্মদ আখলাক সাইফি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের গো নিরাপত্তা আইন ১৯৫৫ আইন অনুযায়ী মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, আখলাক হত্যায় অভিযুক্তদের করা এফআইআরে বলা হয় আখলাকের ভাই মোহম্মদ জান একটি মাঠে বাছুরটির গলা কেটেছিলেন। গ্রামবাসীরা দাবি করেন, গত সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখ আখলাক এবং তার পূত্র দানিশকে দেখা গেছে তার বাছুরটিকে নির্যাতন করতে। তারা দাবি করে, বাছুরটি মানুষজনকে বিরক্ত করছিল। এরপরে পিটিশনে বলা হয়, আখলাক বাছুরটিকে চেপে ধরে রেখেছিলেন তখন তার ভাই মোহাম্মদ জান বাছুরটিকে জবাই করে।
 
ওই ঘটনার দুই দিন পরে দাদরির উত্তেজিত উচ্ছৃঙ্খল জনতা আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনার পরে আখলাকের পরিবার দাদরি ছেড়ে এয়ারফোর্সে কর্মরত বড় ছেলের দিল্লির বাসায় চলে এসেছেন। সাম্প্রতিক একটি ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে আখলাকের বাড়ির পাশের ডাস্টবিনে গরুর মাংসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
 
দাদরি গ্রামের বাসিন্দারা গত জুনে একটি মহাপঞ্চায়েতে আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের দাবি তুলে। উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয় তবে গরু জবাই করা অ-জামিনযোগ্য অপরাধ যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড। 
 
স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানা কোর্টের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ছেলে আখলাককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৮ জনের একজন। তিনি বলেন, এটা বিচার বিভাগের বিজয়। আমি কোর্টের অর্ডারটি নিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে যাবো এবং এই বিষয়ে পঞ্চায়েত ডাকবো। দাদরির বিষয়ে নতুন এই টুইস্ট এমন সময়ে উঠে আসলো যখন রাজনৈতিক দলগুলো আগামী বছরের উত্তর প্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনডিটিভি।