ভূঞাপুরে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চান বন্যার্তরা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বন্যার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় রাস্তা ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করেছে। এসব অসহায় মানুষ যাতে বন্যার সময় গবাদি পশু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করতে পারে সেজন্য স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া যমুনার পানি কমতে থাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
 
২১৭ আয়তনের এ উপজেলায় প্রায় ১৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলায় পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাবসারা ইউনিয়ন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্জুনা ইউনিয়নও। এছাড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোবিন্দাসী, নিকরাইল, অলোয়া ও ফলদা ইউনিয়ন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত হাজার ৮৫০ হেক্টর আবাদি জমিও। এছাড়াও নদী এলাকায় পাঁচ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যমুনার উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে। নতুন করে ভাঙনের শুরু হয়েছে গাবসারা ইউনিয়নের ডিগ্রির চর, রাজাপুর, রামপুর, ফলদাপাড়া, গোপিনাথপুর, বিশ্বনাথপুর, মেঘার পটল ও চরচুন্দনী। গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, কুকাদাইর ও ভালকুটিয়া। অজুর্না ইউনিয়নের চুকাইনগর, অর্জুনা, গোলপেচা, বাসুদেবকোল, শশুয়া, তালতলা, জগৎপুরা ও চর-বিহারীর গ্রামের কিছু অংশ।
 
গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যার প্রকোপে ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। ইউনিয়নের প্রত্যেকটি রাস্তা-ঘাট ভেঙে পড়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি স্কুল, মাদরাসা বন্ধ ছিল। বেশ কয়েকটি মসজিদে বন্যার পানি উঠে পড়ায় মুসুল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেনি। এই ইউনিয়নে আশ্রনকেন্দ্র ও উঁচু টিলা প্রয়োজন। যাতে বন্যার সময় মানুষ তাদের গরু, ছাগল পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে।’
 
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ