দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মনে করেন সর্বগ্রাসী দুর্নীতি দেশের জিডিপি’র ২ থেকে ৩% খেয়ে ফেলছে। এছাড়া সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির কারণেই মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দুদক একটি কৌশলপত্রের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে চায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘‘খসড়া কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২১’’ এর ওপর কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ মতবিনিময় সভায় কমিশনের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, আলোচনা অনুষ্ঠান মডারেট করেন কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ এবং মূল প্রবন্ধ উপ¯’াপন করেন দুদকের মহাপরিচালক ড. মো: শামসুল আরেফিন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব আবু মো: মোস্তফা কামাল, এওত এর রুল অব ‘ল’ কর্মসূচির হেড অব প্রোগ্রাম প্রমিতা সেনগুপ্ত, এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি, এডিবি’র প্রতিনিধি ফিরোজ আহমেদ, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের প্রথম সচিব টম নেটলোটন, আইএলও’র প্রতিনিধি হাসিনা বেগম,বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি সাঈদ খালেদ আহসানপ্রমুখ।
আলোচকদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, অভিযুক্তদের নিরাপদ গ্রেপ্তার এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কশিনের নিজস্ব^ সশ¯্র ইউনিট থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কমিশন আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি কমিয়ে আনতে চায়, তাই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল পত্রের ফোকালপয়েন্টদের মাধ্যমে সরকারের সাথে দুদকের সম্পর্ককে আরও কার্যকর করতে চায়। আমরা চাই জাতীয় শুদ্ধাচার ফোকালপয়েন্টগণ হবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির স্বছতা নিশ্চিতকল্পে ওয়াচডগ।
তিনি বলেন, দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার পরে কাউকে শাস্তি দেয়ার চেয়ে দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করাই উত্তম। তাই বর্তমান কমিশন স্বল্প-মেয়াদি, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করবে। তিনি মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে ভবিষৎত প্রজন্মকে রক্ষার জন্য ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষা পাঠ্যক্রমে মূল্যবোধ সংশ্লিষ্ট কারিক্যুলাম প্রণয়নের আহবান জানান, তিনি বলেন এটা আমাদের এখনই শুরু করা উচিত। তিনি বলেন কোন পরিবর্তনই সহজে হয় না। দুদক সেবাদান পদ্ধতি সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন এমনকি দুদকে যারা চাকরি করেন তাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হ”েছ।
এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের নিকট প্রদানে দুদক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত। আমরা এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছি। তিনি বলেন আমরা চিন্তা করছি সরকারের বৃহৎ প্রকল্প বা কর্মসূচিতে দুদক কর্মকর্তাদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়। এক্ষেত্রে প্রকল্পের কোন দুর্নীতি বা অনিয়ম কমিশনের দৃষ্টিতে আসলেই সেগুলো যথাযথ ব্যব¯’া গ্রহণের জন্য সরকারকে জানানো যেতে পারে। এতে প্রকল্প বা কর্মসূচির স্ব”ছতা নিশ্চিতে সহায়ক হতে পারে।
তিনি বলেন, দুদক তার কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন পাশাপাশি জনগণ, সরকার, সুশীল সমাজ, মিডিয়াসহ সকলের নিকটই দায়বদ্ধ।
জার্মানভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এওত এর কারিগরি সহযোগিতায় পাঁচ বছর মেয়াদি এ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কৌশলপত্রে আটটি উল্লেখযোগ্য দিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি, কার্যকর অনুসন্ধান ও তদন্ত, মামলা পরিচালনা, প্রতিরোধ কৌশল, শিক্ষা কৌশল, উদ্ভাবনী গবেষণা ও উন্নয়ন, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো সুদৃঢ়করণ ইত্যাদি। এছাড়াও এ কৌশলপত্রে দুর্নীতির কারণসমূহ পর্যালোচনা করে একটি ধারাবাহিক সুপারিশকৃত কার্যাবলি এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে ৫৯টি উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা চিহ্নিত করা হয়, যা আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে।