কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মধ্যেই ভারতের সেনাবাহিনী সেখানে একজন স্কুল শিক্ষককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সেনাবাহিনী জানায়, শ্রীনগরের একটি গ্রামে অভিযানকালে সৈন্যরা এক স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করে। একে ‘অহেতুক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী।
নিহতের নাম শাবির আহমেদ মংগু (৩২)। তিনি একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। শ্রীনগর থেকে ৪০ কিমি. দূরে বুধবার রাতে খিরিউ নামক স্থানে শাবির এবং আরো কয়েকজনকে সৈন্যরা বেধড়ক পেটায়। এতে এক পর্যায়ে মারা যান ওই শিক্ষক।
তার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সৈন্যরা বিক্ষোভকারীদের খোঁজার নাম করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায় এবং শিবিরকে নির্দয়ভাবে পেটায়। এ নিয়ে কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এমনিতেই গত ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর উত্তপ্ত হতে থাকে কাশ্মির। তার ওপর ওই শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে। এখন পর্যন্ত সেখানে অর্ধ শতাধিক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। ৪৩তম দিনের মত কারফিউ বলবত রাখা হয়েছে সেখানে।
নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার লে. জেনারেল ডি এস হুদা গত শুক্রবার বলেন, যে অভিযান চালানো হয়েছে, তার কোনো অনুমোদন ছিল না। বিস্তারিত ঘটনা জানানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, যেভাবে ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ এ ধরনের বিষয় সমর্থন করতে পারে না। এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি জনগণকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানান।
তবে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্ররোচিত করা হয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। -এনডিটিভি
ইত্তেফাক/এমএএস