'জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করবে ব্রিটেন ও বাংলাদেশ'

 
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেছেন, পৃথিবী জুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার হয়েছে। জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও ব্রিটেন একযোগে কাজ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ব্রিটেন সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটেন তথা ব্রিটিশদের সঙ্গে বাঙালির ‘ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক’ সম্পর্ক রয়েছে।
 
শনিবার ‘লন্ডন-১৯৭১: ভিনদেশে বাঙালির আগুনঝরা দিনের গল্প’ শিরোনামে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের সমর্থনে ব্রিটেনে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি ব্রিটিশদের অকুণ্ঠ সমর্থনের নানা কাহিনফচিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে তিনদিনের এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রজেক্ট লন্ডন ১৯৭১-এর উদ্যোক্তা ও সমন্বয়কারী উজ্জ্বল দাশ এ প্রদশধনীর ছবি সংগ্রহকারী ও মূল উদ্যোক্তা।
 
অ্যালিসন ব্লেক আরো বলেন, ‘আমি তখন ছোট্ট শিশু। বাঙালিদের পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিকরা যখন আন্দোলন করছে, তার কিছুই আমার মনে নেই। তবে এ প্রদর্শনীতে এসে মনে হচ্ছে, এ এক অনন্য ইতিহাস। বাঙালির সঙ্গে ব্রিটিশদের সম্পর্ক যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তার সাক্ষ্য দেয়। এখানে এসে জানলাম, বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা, একাত্তরের নির্মম গণহত্যার কথা। প্রতিটি ছবি বলছে যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা, নির্মমতার কথা। ইতিহাসের এক বড় স্বাক্ষ্য এই প্রদর্শনী।
 
প্রদর্শনী ঘুরে দেখে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ছবিতে শুধু সেদিনের লন্ডন আর ব্রিটিশদের কথাই বলা হয়নি। প্রতিটি ছবিতেই ফুটে উঠেছে বাঙালির জাতীয়তাবাদ।’
 
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া গুটিকয়েক ছবির বাইরে অনেক ছবির কথাই আমরা জানতাম না। আয়োজক প্রজেক্ট লন্ডন-এর কর্মীরা উদ্ধার করেছে সেসব ছবি।’
 
তিনি বলেন, ‘রোমাঞ্চকর এই প্রদর্শনীতে এসে সত্যি উদ্বুদ্ধ হলাম। বাঙালির আত্মত্যাগ, একাত্তরের গণহত্যা, প্রবাসে বাঙালিদের অপরিসীম সহযোগিতার পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের অবদানের কথা আমরা কখনও ভুলব না।’