চৌমুহনী শহরে বেশ কয়েকটি সরকারি জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয় ভরাট করে দখল করে নেয়া যেন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের চোখের সামনে ভরাট হলেও তা প্রতিহতের ব্যবস্থা নেই।
বেগমগঞ্জ ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৮০টি সরকারি জলাশয় রয়েছে। তন্মধ্যে অর্ধেকের মত উন্মুক্ত জলাশয় (খাল) বাকিগুলো পুকুর ও দিঘি। এর মধ্যে ২০টি চৌমুহনী শহরে রয়েছে। খালগুলো ছাড়া পুকুর দিঘিগুলো ইজারা যোগ্য বলে রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
চৌমুহনী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন দিঘি, সিনেমা হল সংলগ্ন দিঘি, করিমপুরে একাধিক পুকুর, কুরীপাড়ার একাধিক পুকুরসহ সরকারি জলাশয়গুলো জবরদখলকারীরা ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। কোন কোন দখলকারী দখল করেই ক্ষান্ত হননি। ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে নিজেদের মালিকানা দাবি করছেন।
অথচ ভূমি দপ্তর সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়সারা ভূমিকা নিয়েই শেষ। এদিকে শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত একাধিক খালের অংশ বিশেষে ময়লা আবর্জনা ফেলে জবরদখলকারীরা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি ভূমি দপ্তর মাপজোক করে ১৫০ জন খাল দখলকারীকে প্রাকৃতিকভাবে খাল ভরাট হয়েছে মর্মে একসনা বন্দোবস্ত প্রদান করে। অথচ চৌমুহনী শহরের কিয়দংশ ছাড়া পুরোখাল সচল রয়েছে। এ অল্প কিছু অংশের জন্য পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে বেগমগঞ্জে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চৌমুহনীতে জলায়শ ও খাল ভরাটের ফলে শহরে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির অভাবে ফায়ার সার্ভিসকে তা মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হয়। ১৪ই আগস্ট গভীর রাতে চৌমুহনী বাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আসলেও পানির অভাবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন নি।
একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সনের ভূমি সংস্কার আইনে যে সকল জলাশয় প্রাকৃতিকভাবে ভরাট হয়ে গেছে ঐ সকল ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চৌমুহনীর সরকারি জলাশয় ও খালগুলো দখলকারীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে প্রকাশ্যে দখল করে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে চৌমুহনী ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি ঐ অফিসে কয়েকদিন পূর্বে যোগদান করেছি। আমি আসার পূর্বেই বন্দোবস্ত সম্পন্ন হয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেও নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।