ভারতে শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ভারতের রাজস্থান প্রদেশের মুখ্য সচিব ওম প্রকাশ মীনার বিরুদ্ধে মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী গীতা সিংদেও। শ্লীলতাহানির সময়ে তাদের কন্যার বয়স ছিল ১৩।
 
অভিযোগের সমর্থনে নিজের নির্যাতিতা মেয়ের লেখা একটি ই-মেইল প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে তাদের মেয়ের বয়স ৩১ বছর, থাকছেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে। উল্লেখ্য, গীতা সিংদেও নিজেও একজন সরকারি কর্মকর্তা, তিনি রাজস্থানের জনসেবা প্রশাসনের অতিরিক্ত পরিচালক।
 
ইমেইলে মেয়েটি বিশদে বর্ণনা দিয়েছে, কিশোরী বয়সে কীভাবে তাকে দিনের পর দিন বাবার হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল। ওই ইমেইলে মেয়ে লিখেছেন, ‘আমি চিরকালই আমার বাবার কাছে ছিলাম একটা বোঝার মতো। আমার জন্য যে প্রতিটা টাকা তিনি খরচ করেছেন, তার প্রতিটার জন্য চরম দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা আমাকে সইতে হয়েছে। আমি বলতে লজ্জিত বোধ করছি, যখন আমি স্কুলে পড়ি, তেরো বছর বয়স - তিনি আমার ঘরে এসে আমার শরীরের অশোভন জায়গায় স্পর্শ করতেন। আমি প্রায় দু'বছর ধরে এই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গেছি, বুঝতে পারতাম না কী করব বা কাকে বলব। সারা রাত ধরে আমি শুধু কাঁদতাম!
 
যদিও এই ই-মেইলটি এপ্রিল মাসে লেখা, স্ত্রী বলেছেন, তিনি এটি এখন প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন - কারণ প্রভাবশালী ওই আমলার বিরুদ্ধে মামলা একেবারেই এগোচ্ছে না। ওই আমলা অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা এই সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। গত দু'বছর ধরেই তার স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা থাকছেন। তার স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে মারধর ও নিষ্ঠুরতারও একটি মামলা করেছেন আগেই।
 
 গীতা সিংদেও বলেন, ‘আমি এই লড়াইতে একেবারে একলা - কারণ গোটা প্রশাসন তার বিরুদ্ধের কোনও ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে। সে কারণেই আমি প্রধানমন্ত্রীর ও জাতীয় মহিলা কমিশনের সাহায্য চাই। চাই এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হোক।’
 
ওম প্রকাশ  অবশ্য দাবি করেছেন, এই অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই।  গত সাত-আট বছর ধরেই তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নানা ধরনের মনগড়া অভিযোগ এনে যাচ্ছেন।  তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলা হল পণ দাবি করা হয়েছে, তারপর এল খোরপোষের দাবি। তারপর মামলা করা হল মারধরের অভিযোগে। এখন আবার এইটা। এখন আপনারাই তাদের জিজ্ঞেস করুন এটাই শেষ, না কি আরও আছে? বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ