বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবন্ধী বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানে অন্তর্ভুক্ত না করায় বাংলাদেশের ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় ব্যাহত হচ্ছে। যা জিডিপির ১.৭ শতাংশের সমান। তাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন,পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত তথ্য উপাত্ত, যার অভাব আছে। তারা সংশ্লিষ্টদের এই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ দক্ষজনশক্তি হিসেবে প্রতিবন্ধীদের তৈরি করার জন্য প্রশিক্ষণ, তাদের প্রবেশগম্যতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সুপারিশ করেন।
গতকাল শনিবার ডেইলি স্টার ভবনে একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও একশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক জাতীয় সেমিনারে এই সকল কথা বলেন বক্তারা।
একশনএইড বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: খায়রুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন,বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশন(বিইএফ)এর প্রেসিডেন্ট সালাউদ্দিন কাশেম খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন, এইএলওর দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কিশোর কুমার সিং, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক মো: খলিলুর রহমান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মো: মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম। প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের সুবিধা, প্রতিবন্ধকতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ক প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এলবার্ট মোল্লা। সভাপতিত্ব করেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম,পলিশি ও ক্যাম্পেইন ডিরেক্টর আজগর আলী সাবরি।
প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ (এনএসডিসি) সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ২৩টি মন্ত্রণালয় ও ৩৭টি বিভাগের সমন্বয়ের কাজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে জোরালোভাবে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সন্তান মেডিক্যাল কলেজে ও বুয়েটে ভর্তি হলে ৩ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
এস কে খান কোং.লি.এর প্রকল্প পরিচালক মুর্তজা রাফি খান বলেন, এইএলওএর উদ্যোগে বাংলাদেশ এমপ্লয়েড ফেডারেশন প্রতিবন্ধী যুবাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিজনেস এন্ড ডিজএবেলিটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে।
এলবার্ট মোল্লা বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৭ হাজার ৭৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে কতজন প্রতিবন্ধী শিক্ষা গ্রহণ করেছে তার তথ্য নেই। তাদের সংখ্যা জানা থাকলে কর্মসংস্থা সৃষ্টি সহজ হতো। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এক শতাংশ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নেওয়ার কথা থাকলেও তা পূরণ করা হয় না। অনেক যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কাজ পায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮৫ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আচরণগত। বাকি ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধিতা বা অক্ষমতা।
ইত্তেফাক/এএন