উদ্ভাবনী ও আধুনিক ফ্যাশনের উপকরণ নিয়ে শুরু টেক্সটাইল মেলা

দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় শুরু হচ্ছে তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলা। রবিবার রাজধানীর হোটেল সিক্স সিজনের গ্রীষ্ম বলরুমে মেলা শুরু হয়।
 
নতুন উপকরণসমূহ খোঁজা এবং তাইওয়ানের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে শীর্ষ সাপ্লায়ারদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতে তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
 
তাইওয়ান টেক্সটাইল ফেডারেশন (টিটিএফ) ও ব্যুরো অব ফরেন ট্রেড অব তাইওয়ান (বিওএফটি)- এর উদ্যোগে ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড বার্ষিক এ মেলা আয়োজন করেছে। মেলা আয়োজনের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)।
 
বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক, রফতানিকারক, ব্র্র্যান্ড মালিক, সোর্সিং অফিসার, বায়িং হাউজ, বায়িং এজেন্ট, আমদানিকারকসহ সবাই এই মেলায় মিলিত হয়।
 
এই মেলায় প্রদর্শিত হবে তাইওয়ানের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ও মানের বস্ত্র, সুতা, ফেব্রিক্স ও পোশাক যেমন- পারফরমেন্স ও আউটডোর ফেব্রিক, ইকো-বান্ধব ও টেক্সচার্ড ফেব্রিক, টিপিইউ ফিল্ম, ডাবল নীট ফ্লিস, জার্সি ফেব্রিক, ব্যাম্বো রেয়ন, জ্যাকোয়ার্ড ফেব্রিক্স, নাইলন এন্ড পলেস্টার ফেব্রিক্স, এলাস্টিক নীটিং ফেব্রিক্স, বোতাম, জিপার, লেসিস, কার্টেইন হেড টেপ এবং আরও অনেক কিছু।
 
টিটিএফ-এর ‘ওভারসিজ মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’-এর কর্মকর্তা শন সাই বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় রফতানি বাজার আমাদের খুবই আকৃষ্ট করেছে। গত বছর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গার্মেন্ট রপ্তানিকারক, বায়িং হাউজ, বায়িং এজেন্ট এবং সোর্সিং কর্মকর্তারা এসেছিলেন যারা তাইওয়ানের এসব উপকরণের প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন। তাদের গার্মেন্টসে মূল্য সংযোজনকারী নতুন রেঞ্জের এসব টেক্সটাইল পণ্যগুলোও এখানে দেখা গিয়েছিলো। সত্যিকার অর্থে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পোশাক বাজারগুলোতে তাইওয়ান প্রস্তুতকারকদের সহায়তা করতে প্রতিনিধি দলকে সংগঠিত করেছি, যাতে নতুন ব্যবসায়িক সুবিধা তৈরিতে ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের প্রস্তুতকারকরা তাইওয়ান থেকে উচ্চ মানের উপকরণ নিয়ে বিশ্ব সেরা মানসম্পন্ন পণ্য প্রস্তুত করবে।’
 
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পগুলো ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জাতীয় রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি তৈরি পোশাক খাত থেকে আসছে। বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক চীনের পরেই বাংলাদেশের রয়েছে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর সাথে ৬০ শতাংশ  চুক্তি এবং মার্কিন ক্রেতাদের সাথে ৪০ শতাংশ চুক্তি, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।
 
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে মানসম্মত গার্মেন্টস কাপড়ের প্রস্তুতকারক এবং রফতানিকারকের সুতিকাগার বলা যায়। পেশাগত গার্মেন্ট শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা তাইওয়ানের প্রস্তুতকারকদের বাংলাদেশ পরিদর্শনে আকৃষ্ট করেছে, যাতে শক্তিশালী ব্যবসায়িক বন্ধন তৈরির পাশাপাশি ‘তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলায় নতুন অংশীদারদের অন্তর্ভূক্ত করা যায়। উচ্চ মানসম্পন্ন এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ফেব্রিক্স এবং উপকরণের মাধ্যমে তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলা বাংলাদেশের প্রস্তুতকারকদের রফতানির মান বাড়াতে সহায়তা করবে।
 
ফেব্রিক ও গার্মেন্ট উপকরণে গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে তাইওয়ান বিশ্বের স্বীকৃত নেতৃত্বস্থানে রয়েছে। অত্যন্ত সফল এই তাইওয়ান টেক্সটাইল ফেব্রিক মেলা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টেক্সটাইল রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশে টেক্সটাইলের শীর্ষ সাপ্লায়ারদের এবং তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহকে একই স্থানে আনতে সক্ষম হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ