দেশের স্বনামধন্য ও শীর্ষ স্থানীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন দেশেই তৈরি করছে উচ্চমানের হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস। অভ্যন্তরীণ বাজারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাহিদা।
চলতি বছর ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস বাজারজাত শুরুর পর থেকে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ওয়ালটন ব্র্যান্ড। এবার লক্ষ্য হলো-২০১৭ সালে দেশের হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস-এর সিংহভাগ বাজার দখলে নেয়া।
এই লক্ষ্যে বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ, প্লাজা ম্যানেজার ও ৬৭ জন এরিয়া ম্যানেজারসহ মার্কেটং বিভাগের প্রায় ৩শ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
লক্ষ্য একটাই- উন্নত মান বজায় রেখে যাতে দেশের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ করা যায়। আলোচনা সভায় ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলম ও ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এসএম মাহবুবুল আলম খালিদ প্রত্যেকের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শোনেন ও মূল্যবান মতামত দেন।
IMG0
রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন মাইক্রো-টেক করপোরেশন প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার ‘প্লাজার বিক্রয় ও উন্নতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শামসুল আলম বলেন, আমাদের উৎপাদিত হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং দামেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। আমাদের রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস পয়েন্ট ও শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্ক। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় ২০১৭ সালে হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস- এর সিংহভাগ বাজার নিজেদের দখলে নিতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়ালটন। এজন্য কর্মকর্তাদের সৃজনশীল মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে কৌশলগত উৎপাদন ও বিক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।
ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এসএম মাহবুবুল আলম খালিদ বলেন, ২০১৭ সালে সিংহভাগ বাজার দখল করতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের নিজেদের পণ্যের উচ্চমান ও অন্যান্য বিশেষ গুণ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি ওয়ালটনের হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রাহক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন বিপণন কর্মকর্তাদের বাজার গবেষণা। কেউ কেউ ওয়ালটন পণ্যকে নকল করে পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
ওয়ালটনের প্রধান বিপণন সমন্বয়ক ইভা রেজওয়ানা বলেন, ২০১৬ সালের প্রথমদিকে ৪৭টি প্লাজা ডিস্ট্রিবিউটর নিয়ে হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের মার্কেটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। উচ্চ গুণগতমান ও সাশ্রয়ী মূল্যের ফলে খুব দ্রুতই গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ওয়ালটন পণ্য। যার প্রেক্ষিতে ওয়ালটন প্লাজা হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা কয়েক মাসেই ৫৭ তে উন্নীত হয়েছে। আশা করছি ২০১৭ সালে এটা গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যাবে।
আলোচনা সভার আগে প্লাজার ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ১০টি গ্রুপে ভাগ হয়ে হোম এন্ড ইলেকট্রিকাল অ্যাপ্লায়েন্সের কারখানার বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেন। নিজেদের চোখে ওয়ালটন পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া দেখে মার্কেটিং পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিভূত হন।
সভায় অংশ নেয়া প্রায় ৩০০ জন বিপণন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সৃজনশীল মেধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বছরে ওয়ালটন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের শক্তিশালী বাজার তৈরিতে দৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ও বিপণন বিভাগের প্রধান এমদাদুল হক সরকার, ওয়ালটন প্লাজা সেলস ও ডেভলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর কামাল হোসেন ও মতিউর রহমান, মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস।
বর্তমানে ওয়ালটন মাইক্রো-টেক করপোরেশনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে ইন্ডাকশন কুকার, গ্যাস স্টোভ, ব্লেন্ডার, সিলিং ও দেয়াল ফ্যান, বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রিক সুইচ-সকেট, রিচার্জেবল ব্যাটারি, এলইডি লাইট, প্যানেল লাইট, রিমোট কন্ট্রোল ফ্যান রেগুলেটর, অন্যান্য হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস। পরিকল্পনা রয়েছে নতুন বছরে আরো বেশ কিছু অ্যাপ্লায়েন্সেস তৈরির।
জার্মানি, জাপান, তাইওয়ানের মতো উন্নত দেশগুলো থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ এনে একদল অত্যন্ত মেধাবী, দক্ষ ও পরিশ্রমী প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা তৈরি করছে এসকল পণ্য।
ইত্তেফাক/ইউবি