আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে কর্মবিরতির অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রমিকরা স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হতে যাচ্ছে। তবে তাদের পাওনাদি পরিশোধের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। শিগগিরই তাদের সার্ভিস বেনিফটসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করে দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতে এ বিষয়ে কারখানা মালিকদের প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।
সমঝোতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার ৬শ’ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের এ প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ততদনি পর অভিযোগ প্রমাণ হলে হয়তো স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হবে। এত দীর্ঘ সময় তারা অপেক্ষা করতে চান না। সমঝোতার মাধ্যমে তাদের পাওনা পাওয়ার পক্ষে। আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। ইতিমধ্যে প্রায় দুইশ’ জনকে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। পাওনার বিষয়ে সমঝোতা হওয়া শ্রমিকরা খুশি।
তবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজ করতে চায়। তারা পরিস্থিতির শিকার। আগামীতে কোন গার্মেন্টস কারখানায় কাজ পাবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।
শ্রমিকদের পাওনার মধ্যে রয়েছে সার্ভিস বেনিফিট, গ্র্যাচুইটি, এক মাসের মূল বেতন ও শ্রম আইন অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধাদি। জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা দেড় হাজারের উপরে। এর মধ্যে আন্দোলনের সূত্রপাত হওয়া উইন্ডি গার্মেন্টসের রয়েছে আড়াইশ’ শ্রমিক। হা-মীম গার্মেন্টসে রয়েছে ২৫৫ জন। অন্যান্য কারখানায়ও বিভিন্ন সংখ্যার শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিক অভিযোগের পর তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে আশুলিয়ার উইন্ডি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকরা ১৫ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। এটি ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য কারখানায়। মালিকপক্ষ ও সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার নানা চেষ্টা করেও শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে পারেনি। বরং প্রতিদিনই তারা কারখানায় হাজিরা (কার্ড পাঞ্চ) দিয়ে কিছুক্ষণ কারখায় থেকে এর পর বেরিয়ে যায়। শ্রমিক নেতা ও সংগঠগুলোর বেশিরভাগই এ আন্দোলনে সায় দেয় নি। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কর্মবিরতি ছড়িয়ে পড়ে ৫০ এর অধিক কারখানায়। এসব কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এর পর হার্ডলাইনে যায় সরকার ও মালিকপক্ষ। শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। টানা ৫ দিন বন্ধ থাকার পর গত সোমবার থেকে খুলে দেয়া হয় কারখানা। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্রায় ১ হাজার ৬শ’ শ্রমিককে।
ইত্তেফাক/এএম।