সীমান্তে এত বন্দুকযুদ্ধের পরও ইয়াবা কারবারীরা নিত্য নতুন কৌশলে দেশে ইয়াবা আনছে। এবার রোহিঙ্গাদের পেট ভাড়া করেই চালানো হচ্ছে পাচারকাজ। চালান প্রতি ২০ হাজার টাকায় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গার দল পেটে করেই এপারে আনছে ইয়াবার চালান।
শুক্রবার এভাবে ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার হতে টেকনাফ সীমান্ত অতিক্রম করা ১৫ রোহিঙ্গা ও তিন বাংলাদেশীসহ ১৮জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এদের মাঝে ১৩ রোহিঙ্গার পেট থেকে শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বের করা হয়েছে ৪৩ হাজার ইয়াবা। বাড়ি ও অন্যদের পরণের কাপড়ে লুকানো আরো ৬ হাজারসহ মোট ৪৯ হাজার ইয়াবা জব্দ করেছে অভিযানকারীরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অফিসরে সহকারি পরিচালক (এডি) সোমেন মন্ডল এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আটকদের মাঝে রোহিঙ্গারা হলেন, আনিস উল্লাহ (২৬), আমান উল্লাহ (৩০), আনোয়ার সাদেক (১৯), মুহাম্মদ সালাম (৪০), জাফর আলম (২৮), দোস্ত মোহাম্মদ (১৯), মো. ইমরান (২৫), হোসেন আহমদ (১৯), দিলদার (২৪), রমিজ উল্লাহ (২৫), আমান উল্লাহ (১৯), মো. ইদ্রিস (২৪), ইমাম হোসেন (২০), জাফর আলম (৩৫) ও খায়ের হোসেন (৫০)। আর বাংলাদেশীরা হলেন বাড়ির মালিক শরীফ আমির হোসেন (২২), সাব্বির (২৫) ও কামাল হোসেন (১৯)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা ব্যবহার করে ইয়াবা আনা হচ্ছে এমন সংবাদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা শুক্রবার সকালে নাফ নদীর তীরে অবস্থান নেয়। এ সময় টেকনাফের হ্নীলা চৌধুরী পাড়ার নাফনদ তীরের একটি সেমিপাকা ঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা। সেখানে অবস্থান নেওয়া ১৮ জনকে ইয়াবা বহনকারী সন্দেহে নিজেদের কব্জায় নেয় অভিযানকারীরা। সেখানে ১৫ জন রোহিঙ্গা ও তিনজন বাংলাদেশী। রোহিঙ্গারা সবাই শুক্রবার ভোরে মিয়ানমার থেকে নৌকাযোগে এপারে এসে ঘরটিতে আশ্রয় নেয়।
এডি জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও এক্সরের মাধ্যমে ১৩ জনকে পেটে ইয়াবা বহনকারী হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ১৩ রোহিঙ্গার পেট থেকে শনিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৪৩ হাজার ইয়াবা বের করা হয়েছে। আর বাড়ি থেকে ৩ হাজার এবং অন্য তিন রোহিঙ্গার পরিধেয় কাপড়ের কোছা হতে পৃথকভাবে ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এসব রোহিঙ্গারা অকপটে স্বীকার করেছে, তারা জনপ্রতি এক ট্রিপে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইয়াবার চালান পাচার করছিল। আর পাওয়া যায় কিনা সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পর তাদের থানায় সোপর্দ করা হবে।
সোমেন মন্ডল আরো বলেন, ইয়াবা পাচারকালে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এরপরও থামছে না ইয়াবা পাচার। টাকার লোভে পড়ে ইয়াবা বহনে যুক্ত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। টাকার লোভে পড়ে নাফনদের ওপার থেকে এপারে পেটে করে ইয়াবা পাচার সত্যি অভিনব পন্থা।
আরও পড়ুনঃ সর্বকালের সেরা গোলের পুরস্কার জিতলেন মেসি
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ সার্কেলের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাতে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু