ট্রাম্প আমলে উত্তর কোরিয়ার প্রথম 'সফল' ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

 
ফের আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে এটা প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেশটির। এদিকে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পরীক্ষা সফল ছিল।
 
উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, ভূপৃষ্ঠে এক স্থান হতে অপর স্থানে দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা 'সফল হয়েছে। এই পরীক্ষার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং-উন।
 
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন অফিস শুরু করা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পরীক্ষা করার জন্য উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তারা দেখতে চায়, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার এই আচরণের জবাব কিভাবে দেয়।
 
এদিকে জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। ফ্লোরিডাতে এই দুই নেতার বৈঠক চলাকালে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। খবর বিবিসি।
 
জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই আচরণ সহ্য করার মত নয়। ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশ পুরোপুরি জাপানের পেছনে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে যখন আমেরিকা সফর করছেন, ঠিক তখনই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া - উভয়কেই বিচলিত করেছে। কারণ এই দুটি দেশকে উত্তর কোরিয়া তাদের দুই প্রধান শত্রু দেশ বলে মনে করে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কি ধরনের তা চিহ্নিত করা যায়নি।
 
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, উত্তর কোরিয়া পশ্চিম তীরে একটি বিমান ঘাঁটি থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ ছিল জাপান সাগরের দিকে। এটা স্পষ্টতই জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন, এবং অনেকে ভেবেছিলেন উত্তর কোরিয়া এ সময়টিকেই তাদের প্রথম আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য বেছে নেয় কিনা।
 
বিবিসির সংবাদদাতা ডেভিড ব্যামফোর্ড বলছেন, আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হবার পর উত্তর কোরিয়ার এই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, আর যেভাবে জাপানী প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার বৈঠক চলার সময় এটা ঘটানো হয়েছে - তাতে এটা যে একটা উস্কানিমূলক এবং উদ্দেশ্যমূলক কাজ এটা স্পষ্ট। উত্তর কোরিয়া দাবি করে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পারমাণবিক আক্রমণ চালাতে সক্ষম কিন্তু তাদের সত্যি তেমন প্রযুক্তি আছে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন।
 
ইত্তেফাক/রাফাত