রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের পুলিশ যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামছে দেশটির সরকার। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার এ খবরটি জানায়।
এর আগে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে মিয়ানমারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ বছর অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন প্রক্রিয়া।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানোর সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে।
চলতি মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী গণহত্যা ও সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ চালিয়েছে, তাদের ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল এবং জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। তবে উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে যতগুলো নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তার প্রায় সবই নাকচ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তের জন্য একটি দল গড়ে তোলা হচ্ছে। আর সোমবারের বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চলার সময় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্য কোনও অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেছে কিনা তা জানতে একটি ‘বিভাগীয় তদন্ত’ চালানো হবে।
পুলিশ কর্মকর্তা মিয়ো থু সোয়ে সোমবার রয়টার্সকে বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠৈছে তা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাই ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের প্রমাণ খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ রয়টার্স।
ইত্তেফাক/সেতু