ভারতে ভোটিং মেশিনের পাহারায় হনুমান!

বলা হয়, গণতন্ত্র হচ্ছে বানরের খাঁচার ভেতর থেকে সার্কাস চালানোর মত।  কিন্তু বাস্তবে যখন প্রবাদের আক্ষরিক অনুবাদ ঘটে সেটা হয়ে যায় কৌতুক।
 
তেমনই এক নজির দেখা গেল উত্তর প্রদেশে। বিধানসভা নির্বাচনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেশিন গুলোর সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত হনুমান নিয়োজিত করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রশিক্ষিত হনুমানগুলোর দায়িত্ব দুষ্ট বানর যাতে ভঙ্গুর কার্যালয়ে রক্ষিত ইভিএম মেশিনগুলোর ক্ষতি না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। 
 
গত ১১ ফেব্রুয়ারি মিরাটের  সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়। ২৪৫১ টি ভোট কেন্দ্র থেকে আসা প্রায় ২৫০০ ই ভি এম রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কাপড়-মিলে বিশেষভাবে তৈরি স্ট্রং রুমে। ওই পরিত্যক্ত কাপড়-মিলে কয়েকশো বানরের বসবাস। তারা ভোট যন্ত্রগুলো নষ্ট করে দিতে পারে, এই আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও লাগানো রয়েছে। বানর বাহিনী ক্ষতি করতে পারে সেই ব্যবস্থাতেও।
 
কিন্তু প্রশিক্ষিত হনুমানরা বানরদের তাড়িয়ে দেয়, তাই এই বিশেষ ব্যবস্থা। স্থানীয় ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বি চন্দ্রকলা বলেন, আমরা মেশিনগুলো বৃষ্টি থেকে রক্ষায় তাবু তৈরি করেছিলাম, কিন্তু বানরগুলো সেখানেও আক্রমণ করেছে। হনুমান ডিউটিতে থাকায় এখন হয়ত কিছুটা শান্তি পাওয়া যাবে। হনুমানগুলো বিধানসভার ভোট গণনার দিন ১২ মার্চ পর্যন্ত ডিউটি করবে।
 
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই বানরের উৎপাত রয়েছে ভয়াবহ রকমের। বিশেষ করে বারানসি বা মথুরা-বৃন্দাবনের মতো হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলিতে হাজার হাজার বাঁদর সেখানকার তীর্থযাত্রী আর নাগরিকদের জীবন একরকম অতিষ্ঠ করে তোলে।
 
 
২০১৪ সালে মথুরায় গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। সেখানকার বানরদের আবার বিশেষ নজর মানুষের চশমার ওপরে। প্রথমে নিরাপত্তার বাহিনী ভেবেছিল মুখার্জীকে চশমা না পড়তেই অনুরোধ করা হবে। পরে অবশ্য রাষ্ট্রপতির ওপরে বানর বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা আটকাতে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রশিক্ষিত হনুমান বাহিনী।
 
বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে বাঁদর তাড়াতে হনুমান নিয়োগ করার ঘটনায় সাধারণ মানুষ কিছুটা ক্ষুব্ধও। তাঁদের কথায়, যদি প্রশাসন তাদের প্রয়োজনে বানর তাড়াতে হনুমান কাজে লাগাতে পারে, তাহলে সেটা বছরভর করা হয় না কেন! বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির