বারাক ওবামার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিলো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা দখলের পর সে সম্পর্কের বন্ধন আরও শক্ত হবে বলেই মনে করেছিল উভয় দেশের বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। কিন্তু ট্রাম্পের সময়ে এবার 'জাতি বিদ্বেষে'র মুখে পড়লেন এক ভারতীয়। গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো তাকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের গারমিন হেড কোয়ার্টারে শ্রীনিবাস কুঞ্চুভোতলা নামে ওই প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। 'আমার দেশ থেকে বেরিয়ে যাও' বলে চিত্কার করে অ্যাডাম পারিংটন নামে এক ব্যক্তি শ্রীনিবাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে প্রকাশ।
কানসাসের ওই বার-এর এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু'জন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়েছে ওই ব্যক্তি। স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই যৌথ উদ্যোগে হামলার তদন্ত শুরু করেছে।
অ্যাডাম পারিংটন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মী। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গুলি চালানোর আগে জাতিবিদ্বেষমূলক কথা বলে সে। গুলি চালানোর সময় চিৎকার করে ভারতীয় যুবককে তার দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।
IMG0
গুলি চালানোর পর সে মিসৌরির ক্নিন্টনে গা-ঢাকা দিয়েছিল। সেখানে পারিংটন এক খাবারের দোকানের কর্মীকে বলে, সে দু'জন মধ্য-প্রাচ্যের লোককে মেরেছে। ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ এই ঘটনাকে 'সম্ভাব্য জাতিবিদ্বেষী অপরাধ' বলেই অভিহিত করেছে।
শ্রীনীবাসকে (৩২) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। ওসাঠে বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করতেন তিনি। তার সহকর্মী অলোক মাদাসানিও (৩২) আহত হয়েছেন। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। এছাড়া, লান গ্রিল্ট (২৪) নামে এক যুবকও ওই বন্দুকধারীর গুলিতে আহত হন।
ঘটনার পরই ভারতীয় দূতাবাস থেকে দু'জন প্রতিনিধিকে কানসাসে আহতদের সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এখন আতঙ্কে রয়েছে আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়রা।
ইত্তেফাক/মনসুর