মানুষ সাধারণত বিপদে পড়লে নিজের শখের গয়নাগুলো বন্ধক রাখেন। বিশেষ করে কারো বিয়ে কিংবা ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা বা চিকিত্সার প্রয়োজন হলে এই কাজটি নারীরাই বেশি করে থাকেন। কিন্তু ভারতের ছত্তিশগড়ের এক নারী করেছেন ব্যতিক্রমী কাজ। তিনি তার মূল্যবান গয়নাগুলো বন্ধক রেখে শতাধিক শৌচাগার নির্মাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযানে এটা একটা মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
অবাস্তব শোনালেও ঠিক সেই কাজটাই করেছেন ছত্তিশগড়ের কাজল রায়। গয়না বন্ধক দিয়ে ছত্তিশগড়ের সন্না পঞ্চায়েত এলাকায় ১২০টি শৌচাগার বানিয়েছেন বাঙালি এই গৃহবধূ। শুধু তাই নয় শৌচাগার বানাতে নিজের টাকায় একটি ইটভাটাও বানিয়েছেন কাজল।
বিশ বছর আগে অমল রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় কাজলের। বিয়ের পর ছত্তিসগড়ের যশপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সন্নায় সংসার বাঁধেন।? শুরু থেকেই দেখে আসছেন গ্রামে কোনও শৌচাগার নেই। তখন থেকেই গ্রামে শৌচাগার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপায় কী? স্বামী অমল বিমা সংস্থার এজেন্ট। টাকা পাবেন কোথায়? বছর সাতেক আগে বিজেপির টিকিটে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হন কাজল। তখনও হাত গুটিয়েই বসেছিলেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প চালু করলে শৌচাগার নির্মাণের স্বপ্ন নতুন করে দেখতে শুরু করেন কাজল। কাজলকে উত্সাহ দেন যশপুর জেলার মহিলা কালেক্টর প্রিয়াঙ্কা শুক্লা। প্রিয়াঙ্কার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের সকলের জন্য শৌচালয় বানাতে নেমে পড়েন কাজল। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে গলদঘর্ম। শেষে সরকারি সাহায্যের ভরসায় না থেকে নিজের গয়না বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত নেন কাজল।
কাজল বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম গ্রাম পঞ্চায়েতে যে সরকারি অনুদান আসে সেই টাকায় শৌচাগার তৈরি করব। কিন্তু দেখলাম অনেক সময় লাগবে। একটা শৌচাগার বানানোর খরচ বাবদ সরকার বারো হাজার টাকা দেয়। কিন্তু ওই টাকা আসতে কয়েক বছর লেগে যায়। তাই সরকারের ভরসায় না থেকে নিজের সমস্ত গয়না বন্ধক রেখে শৌচাগার বানাতে নেমে পড়ি। - ইন্ডিয়াটাইমস
ইত্তেফাক/নূহু