সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম থেকেই মধু সংগ্রহের জন্য বনে যেতে শুরু করেছেন মৌয়ালরা। বছরের এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস সুন্দরবনে মধু আহরণের সময়।
শরণখোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌয়ালরা বনবিভাগের পাস নিয়ে বনে ছুটছেন। অনেক মৌয়াল মধু ভাঙার প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বন সংলগ্ন শরণখোলা গ্রামের মধু আহরণকারী বাদল হাওলাদার, ইউসুফ মাতুব্বর, আসাদুল কবিরাজ, রতন মোল্লা, এবং খুঁড়িয়াখালী গ্রামের শাহজাহান আকন , এমাদুল তালুকদার, মজিদ ফরাজী, জামাল ফরাজী, হারুন ফরাজী জানান, বনে এখন আর আগের মতো মধু পাওয়া যায়না। এখন গরান ও খলসী ফুলের মৌসুম এবং শেষের দিকে আসবে কেঁওড়া ফুল। কিন্তু বনে গরান ও খলসী এই দুই জাতের গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যার ফলে মধুও কমে হচ্ছে।
মৌয়ালরা আরো জানান, তাদের মধু আহরণ করতে বনের গহীনে ঝোঁপঝাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। বাঘ,সাপ, কুমির ও অন্য হিংস্র প্রাণীর কাছে জীবন বাজি রেখে তাদের মধু আহরণ করতে হয়। প্রতি বছর তাদের দু-একজন সঙ্গী এসব প্রাণির আক্রমনে মারা যায়। পেটের টানে তারপরও তাদের পুরনো পেশা আঁকড়ে ধরে জীবীকা নির্বাহ করতে হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ১ এপ্রিল প্রথম দিনে তিন শতাধিক মৌয়াল পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করেছেন। এবছর মধু খাত থেকে গত বছরের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ রাজস্ব আয় হবে। প্রতি কুইন্টাল মধু থেকে ৭৫০টাকা এবং প্রতি কুইন্টাল মোম থেকে এক হাজার টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌসুমের প্রথম দিনে শরণখোলা ও বগী স্টেশন থেকে ৩০টি নৌকার পাস দেওয়া হয়েছে। তিন শতাধিক মৌয়াল দুই সপ্তাহর পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করেছে। বনবিভাগের তত্বাবধানে তাদের বনের কোকিলমনি এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বনের ২৪ নম্বর কম্পপার্টমেন্টের মরাভোলা, তেঁতুলবাড়িয়া, দাসের ভারানি এবং অভয়ারণ্য এলাকার বাইরে গিয়ে তারা মধু আহরণ করবে।
আরও পড়ুনঃ বেরোবিতে একাউন্টিং বিভাগের কনসার্টে শ্লীলতাহানির অভিযোগ
তিনি বলেন, গত বছর শরণখোলা রেঞ্জে চার লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এ বছর ছয় লাখ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু