সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি কমছে

 
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাড়ছে বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি। শনিবার বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রোয়েন বাঁধে বিভিন্ন চরাঞ্চলের বানভাসি প্রায় দেড়শ' পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ওই সব পরিবারের কেউই এখন পর্যন্ত ত্রাণ পাননি। ওই বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ইংরেজ সরকার, বিধবা আয়েশা বেওয়া (৬৫) বলেন, 'একটি তাবুর নিচে ১৫ দিন ধরে ৬টি পরিবারের ১৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছি। সবাই দিনমজুর। অন্য এলাকায় কি অবস্থা জানি না তবে আমাদের এখানে কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি।' তবে যমুনার পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি অভাব। নোংরা পানিই খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে জ্বর ও বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে।
 
এদিকে দুই দিন আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে শিবগঞ্জ উপজেলায়। এতে করে ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের কুপা মহাবালা, মীরাপুর, দোগাছি, বাগইলপুর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। ফলে দাড়িদহ মাদ্রাসা ও দাড়িদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
 
বাঁধ ভাঙা পানিতে শিবগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও দুইশ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাছুদ আহমেদ জানান, 'পানি দিন দিন বাড়ছেই। এতে করে ফসলের আরও ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে।'
 
ইত্তেফাক/জামান