রোগী আছে, চিকিত্সক নেই ফার্মাসিস্ট দেখেন রোগী, ঝাড়ুদার দেন ওষুধ


সখীপুর উপজেলার বড়চওনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সক নেই। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ। প্রতিদিনই এলাকার রোগীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিত্সক ও চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এখানে প্রায় ১৫/১৬টি গ্রামের প্রতিদিন একশ’ হতে দুইশ’ রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। গতকাল শনিবার সরেজমিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। জানা যায়, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার একজন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার একজন, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএস থাকার কথা। কিন্তু গত সাত/আট মাস ধরে মেডিক্যাল অফিসার আবদুল্লাহ আল আকিল বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবদুল মালেক সিদ্দিকী ছুটি নিয়ে গত ৫ আগস্ট হজে গেছেন। এমএলএসএসের পদটি কয়েক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। শনিবার দুপুরে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মাসিস্ট আবুবকর সিদ্দিক রোগী দেখছেন, আর ঝাড়ুদার লাল বানু রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন। ফার্মাসিস্ট আবুবকর সিদ্দিক বলেন, এ পর্যন্ত ১৪/১৫ জন রোগী দেখেছেন তিনি। পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগী এসেও চলে যান বলে যোগ করেন তিনি। ওষুধ না থাকায় এখানে একশ’ থেকে দেড়শ’ রোগী প্রতিদিন সেবা নিতে আসলেও গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৪/১৫ জন রোগী দেখেছেন তিনি। চিকিত্সক আর ওষুধ না থাকায় দিনদিন রোগী কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিয়ম-নীতি না থাকলেও ফার্মাসিস্ট আবুবকর সিদ্দিক রোগী দেখেন আর ঝাড়ুদার লাল বানুকে ওষুধ ডেলিভারি দিতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ রাফিউল করিম খান বলেন, ফার্মাসিস্ট আবুবকর সিদ্দিকের রোগী দেখার কোনো নিয়ম নেই। তবে চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশন দেখে সে ওষুধ প্রদান করবে। সময়মত ওষুধ না পাওয়ায় সাময়িক ওষুধ সংকট রয়েছে। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন করে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

নামেই ৫০ শয্যার ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ জনের মধ্যে ডাক্তার রয়েছেন তিনজন

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নামে ৫০ শয্যা। বাস্তবে কোনো সিট নেই এ হাসপাতালে। তেরো মাস আগে ৫০ শয্যার বেড আসলেও তা ইনডোরে স্থাপন করা হয়নি। রয়েছে বাক্সবন্দি। নেই কোনো প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ইনডোর সেবা একদম চালু করা হয়নি। বহির্বিভাগের রোগীদের শুধুমাত্র ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার মধ্যেই হাসপাতালের কাজ সীমাবদ্ধ। ফলে উপজেলার সোয়া দুই লাখ মানুষের চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নিচতলার বারান্দায় চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ভিড়। পাশের দুটি কক্ষে মাত্র দু’জন চিকিত্সক বহির্বিভাগে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। তারা জানান, প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ’ রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। ইনডোর সেবা না থাকায় ১০/১২ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসিফ জানান, ইনডোর চালুর জন্য জনবল নেই। ২১ জন মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে আছেন মাত্র তিনজন। অন্যান্য স্টাফ তো নেই-ই। চাহিদামত ওষুধ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম নেই। এক্স-রে, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই।

ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাত হোসেন জানান, হাসপাতালের সার্বিক চিত্র খুবই নাজুক। স্টোরকিপার নুরুল ইসলাম জানান, ওটি চার্জার ও অ্যাম্বুলেন্স নেই। সরবরাহ করা ৫১টি বেড (রোগীর খাট) বাক্সবন্দি। জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে চালু করা যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আলী জানান, কখন পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসাবে এটি চালু হবে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

ইত্তেফাক/নূহু