ডিএনডি সমস্যায় চলতি বছরের শেষে কাজ শুরুর অপেক্ষা

 
১৯৬৫ সালে ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে নির্মাণ করা হয় ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধ। ৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশ যখন তলিয়ে যায় তখন ডিএনডি ছিল বন্যামুক্ত। এরপর থেকে ডিএনডি এলাকায় হু হু করে শত শত মিল কারখানা স্থাপনসহ মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে। রাজধানী লাগোয়া ডিএনডি এলাকা কয়েক বছরে আবাসিক এলাকায় পরিণত হয়।
 
বর্তমানে ডিএনডির অভ্যন্তরে ২০ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় তাদের ভাগ্য বিপর্যয়। অতিবৃষ্টি আর বিভিন্ন খাল বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বছরের পর বছর তারা দুর্ভোগ পোহাতে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতেই লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গত দুই মাস ধরে তারা অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই অবস্থা নিরসনে সরকার একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই নিয়ে এলাকায় বহু সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। এই অবস্থায় সরকার চলতি বছরের শেষ দিকে ডিএনডির সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যদি সময়মতো বাস্তবায়ন হয়, তবুও আগামী তিন বছর দুর্ভোগ পিছু ছাড়বে না ডিএনডি বাঁধের মধ্যে বসবাসরতদের। স্থায়ীভাবে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি সরকার। বলা হচ্ছে, প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
 
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একনেকে পাস হওয়া ডিএনডি প্রকল্পটির কাজ আগামী নভেম্বরে শুরু করতে পারে সেনাবাহিনী। কাজ শুরু হলে ডিএনডি প্রকল্প শেষ করতে তিন বছর সময় লাগবে। সব মিলিয়ে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে ডিএনডিবাসীকে কমপক্ষে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে।
 
২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে ডিএনডি সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এ বিষয়ে ডিএনডির প্রকল্প পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পটির কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ বছরের শেষ নাগাদ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। আর সেটা ২০২০ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯৩ কিলোমিটার খাল দখলমুক্ত ও পুনর্খনন করার পাশাপাশি কালভার্ট, কজওয়ে, সেতু, ড্রেন, ওয়াটারওয়ে নির্মাণ ও মেরামত করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সার্ভে, নকশা ও প্রাক্কলনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবিনেটে অনুমোদন হলে আগামী নভেম্বরে সেনাবাহিনী প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠে নামবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর