নাটোরের সিংড়ায় আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৩ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন এখন পল্লী বিদ্যুত্ সাবস্টেশন। যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বিদ্যুত্ সরবরাহ। উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউএনও সারাদিন পানিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
সরকারি বরাদ্দকৃত নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও ৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে উপজেলার কয়রাবাড়ীতে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
উপজেলার প্রায় ৭০টি স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সিংড়ায় গত পাঁচ দিনে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৮ শতাধিক পুকুরের মাছ। বন্যা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারণে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় মত্স্য বিভাগ ১১ কোটি টাকার ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। বন্যার কারণে রাতারাতি পুকুরের মাছ বন্যার পানির সাথে ভেসে গেছে। অনেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তবে বন্যায় মাছ চাষীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
সিংড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, মত্স্য ভাণ্ডার চলনবিলের সিংড়ার অধিকাংশই মত্স্য চাষী। হঠাত্ বন্যায় এই উপজেলার সাত শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতি ১১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে পানি প্রবাহ অব্যহত রাখার জন্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির নির্দেশে সৌতি জাল অপসারণ অব্যাহত আছে।
হুমকির পড়েছে কয়েকটি বাঁধ ও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির-১ এর সিংড়া অফিস। বন্যা কবলিত অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। পৌরসভায় ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৫ হাজার হেক্টর সহ মোট ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, সোমবার সকাল থেকে আত্রাই নদীতে বিপত্সীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৬/৭টি স্থান হুমকির মধ্যে রয়েছে। সেখানে বালির বস্তা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল আহসান জানান, বর্তমানে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএম।