বাবুগঞ্জে ভাঙ্গনে ঝুঁকির কবলে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু

বরিশালের বাবুগঞ্জে দক্ষিণ রাকুদিয়ায় একই এলাকায় গত ৪ মাসে ৪ বার ভেঙ্গেছে। ফলে গৃহহীন হয়ে পরেছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো। বাবুগঞ্জে’র সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই বিলীন হয়েছে বাবুগঞ্জের শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নিঃস্ব হয়েছে হাজারো পরিবার। প্রতিনিয়তই বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো। সোমবার রাতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর পশ্চিম পাড়ের বাম দিকে একশ গজ দূরে মাতুব্বর বাড়ি এলাকায় দোকান ঘর সহ অন্তত কয়েক একর জমি ফলদ বৃক্ষসহ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকার মাতব্বর বাড়ি, হাওলাদার বাড়ি ও আকন বাড়ির প্রায় ১ শত পরিবার তাদের বসত ঘর, গবাদি পশু ও জীবন যাপন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পেতে কেউ ঘর ভাঙ্গছেন কেউ বসত ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। গতকালের ভাঙ্গন নিয়ে গত ৪ মাসে ওই একই এলাকা ৪ বার ভাঙ্গলো। এছাড়াও ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর(দোয়ারিকা) সেতু, রাশিদা মোর্শারফ একাডেমি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজ, জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম, চরষাধুকাঠি মাদ্রাসা, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, মীররগঞ্জ ফেরিঘাট ও বাজারসহ বেশকিছু সরকারী বেসরকারি সামাজিক স্থাপনা।
 
জোয়ারে পানি কমতে শুরু করলেও নদীতে রয়েছে প্রবল স্রোত যার কারণে ভাঙ্গন ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে আতঙ্কিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের শত শত পরিবার। চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে ওই একই এলাকার বেশ কয়েকটি বসত ঘর সহ আবাদি জমি গ্রাস করেছিল সুগন্ধা।
 
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, গত ২৮ জুলাই ওই এলাকায় তৃতীয় বারের মত ভেঙ্গেছিল তখন স্থানীয় সাংসদ এ্যাডঃ শেখ মোঃ টিপু সুলতান, উপজেলা প্রশাসন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে এসে স্থানীয়দের বাঁশ দিয়ে পার্কোপাইন তৈরির পরামর্শ দেয়ে বলেছিলেন নির্মাণ খরচের বিষয়টি তারা দেখবেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্যোগে পার্কোপাইনের কাজ শুরু করেছেন ঠিকই কিন্তু কোন মাধ্যমে তাদের কেউ সাহায্য করছে না। ভাঙ্গনের অবস্থা এখন এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, অনেকে বসতঘর সরিয়ে নেয়ার সময়ও পাচ্ছেনা। সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতেপারে এলাকাবাসী।
 
ইত্তেফাক/রেজা