যশোরের চৌগাছায় এনজিওর কর্মীদের হেনস্থার শিকার হয়ে লিপি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী। ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্মীদের দ্বারা অপদস্থ হচ্ছিলেন তিনি। এ কারণে অপমানে সোমবার বিকেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
স্বামী ইকবাল হোসেন ও প্রতিবেশীরা জানান, সংসারে উন্নতি ও মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য লিপি বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অনটনের কারণে ঠিকমত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। সম্প্রতি তার শ্বশুর জমি বিক্রি করে কিছু টাকা পরিশোধ করে দেন।
স্থানীয়রা জানান, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (সদস্য নং৭৩৮৩), আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার (সদস্য নং ৫৫৫৩), বন্ধু কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সদস্য নং ২৩০৫), আশা (সদস্য নং ৭৮৭৭), শক্তি ফাউন্ডেশন ( সদস্য নং ২০৪/২) ও গ্রামীণ ব্যাংক (সদস্য নং ৩৬৭৩) এনজিও গুলি থেকে তিনি এই ঋণ নেন।
বাকি টাকার জন্য বিভিন্ন এনজিও'র প্রতিনিধিরা প্রতিদিনই বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছিলেন। টাকা যোগাড়ে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিওর মাঠকর্মীরা প্রায়ই গালিগালাজ করেন। একদিকে টাকার ব্যবস্থা করতে না পারা অন্যদিকে এনজিও কর্মীদের হেনস্থায় অপমানে সোমবার বিকেলে নিজ ঘরের আড়ায় গলায় দড়ি দেন তিনি। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির লোকজন বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন, ভেতরে ঝুলে আছেন লিপি। সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায়’ই লাশ উদ্ধার করে থানা কম্পাউন্ডে রাখে।
চৌগাছা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই জসিম উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একটি সূত্র দাবি করেছে, লিপি যখন আত্মহত্যার জন্য ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেন। তখনও একটি এনজিওর দু’জন কর্মী ঘরের বাইরে দাড়িয়ে ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন লিপি ঘরে গেছেন টাকা আনতে। কিন্তু লিপির লাশ উদ্ধারের সময় তারা সটকে পড়েন।
পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন বলে শুনেছি।
ইত্তেফাক/রেজা