জেলার ঘিওর উপজেলায় বন্যায় মাছের খামার তলিয়ে প্রায় কোটি টাকার মাছ মারা গেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারিরা। সরকারি সহযোগিতা ও সুদমুক্ত ঋণ পেলে আবারো মাছ চাষের স্বপ্ন দেখবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি বন্যায় পুকুর ও হাওর তলিয়ে যাওয়ায় রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, বাটা, বৃগেট, সিলভার কার্প ও পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এতে মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মৎস্য চাষীর সংখ্যা ২০৬ জন। পুকুর ও হাওরের সংখ্যা ২৩৫ টি। পুকুর ও হাওরের আয়তন ৩৪ হেক্টর। মাছের পরিমাণ ২৯ মেঃ টন। পোনা মাছের পরিমাণ ৭ লাখ ২০ হাজার। মাছের মূল্য ৫২ লাখ ২০ হাজার। পোনা মাছের মূল্য ২৯ লাখ ৮০ হাজার, অবকাঠামো ১ লাখ, মোট ক্ষতির পরিমান প্রায় ১ কোটি টাকা।
আরো জানা যায়, টানা কয়েক দফা বৃষ্টি, বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর-জলাশয়ের প্রায় ১ কোটি টাকার মাছের বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরি গ্রামের বকতিয়ার হোসেন। তার প্রায় ১৫ বিঘা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা মৎস্য খামারের বাঁধ রাতের আঁধারে ভেঙে পানি ঢুকে ৭ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। মাছ চাষীরা বাঁধের পাশে জাল ও বানার বেড়া দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও পানি বাড়তে থাকায় মাছ আটকানো সম্ভব হচ্ছিল না। পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক লাখ টাকার স্বপ্নের মাছ। এ অবস্থায় বকতিয়ার সরকারি সহযোগিতা কিংবা সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানান। বকতিয়ার বলেন, চোখের সামনে বাঁধ ভেঙে লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। শুধু তাকিয়ে দেখেছি। কিছুই করার ছিল না।
বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া জানান, তিনি প্রায় ১ একর জমি লিজ নিয়ে মৎস্য খামারটি তৈরি করেন। সেখানে ৩ লাখ টাকার ওপরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করি। কিন্তু বন্যায় মৎস্য খামারের বাঁধ ভেঙে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ তলিয়ে গেছে নদী ও বিলে। বানিয়াজুরি ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের আলিম উদ্দিন, রামকান্ত পুরের রেজাউল বলেন, স্বপ্ন নিয়েই খামার করেছিলাম। খামারে ১০/১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করত। প্রায় ৫ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ করেছিলাম। আশা ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসে মাছ বিক্রি হলে কয়েক লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু বন্যায় সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেব তা ভেবে পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।
এছাড়া ঘিওর ইউনিয়নের আতোয়ার রহমান, ইকবাল হোসেন, সুনীল হালদার, তাপস হালদার, পাষান মিয়া, সনজ কান্তি, চরবাইলজুরির বাবু ঠাকুর, নালী ইউনিয়নের রাজা মিয়া, পয়লা ইউনিয়নের মুন্নু দেওয়ান, অলিদ খান, সিংজুরি ইউনিয়নের রমজান আলী, জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েকজনের মৎস্য খামার তলিয়ে গিয়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারফ উদ্দিন জানান, বন্যায় ধান পচে উপজেলায় কোনও ধরনের মাছের ক্ষতি হয়নি। তবে বন্যার পানিতে অনেক পুকুরসহ মাছের খামার ভেসে গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের নামীয় তালিকা করে একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের ক্ষতিপূরণ দিলে চাষীরা উপকৃত হবে।
ইত্তেফাক/নূহু