বেনাপোলে ৫০ কোটি টাকার চালান আটকা, পশু খাদ্য নষ্টের আশঙ্কা

 
প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের আদেশকৃত এক পত্রে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা ২৭টি পণ্য চালানের প্রায় ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান আটকা পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ইতিমধ্যে অধিকাংশ চালানের মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
কাস্টমস সূত্র জানান, ভারত থেকে আমদানি করা পোল্ট্রি ফিড ও এ্যানিম্যাল ফিড সাপলিমেন্ট এর পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অধিদফতরের এনও সি আবশ্যক বলে শুধুমাত্র বেনাপোল কাস্টমস হাউজকে পত্র জারি করায় বেনাপোল বন্দরে ২৭টি পণ্য চালানের আমদানিকৃত পোল্ট্রি, ফিস ও পশু খাদ্যের খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।
 
আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ অনুচ্ছেদ- ১৭ এর শর্ত প্রতিপালন করা হলেও শুধুমাত্র একটি পত্রের কারণে বন্দর থেকে এ সব পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে রফতানি কারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়ে থাকে। জিএমও টেস্ট সনদ দাখিল সাপেক্ষে পণ্য চালান বন্দরে পৌঁছার পর সরকার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে ক্লোরোফিনিক্যাল, নাইট্রোফুরান ও এন্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে তার সঠিকতা পাচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
 
ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের আমদানি-রফতানি সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, আইপিও সব ধরনের শর্ত পূরণ করা হলেও শুধুমাত্র  প্রাণী সম্পদের একটি চিঠির কারণে বন্দরে আটকে আছে ২৭টি পণ্য চালানের ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্য। কাস্টমস এর এসআরও ১৩০-আইন/২০২৭/১৬ কাস্টমস তারিখ ০১/৬/২০১৭ আদেশ বলা হয়েছে টেবিল ভুক্ত হাস মুরগী ও পশু খাদ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে ছাড় করণের ক্ষেত্রে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের এনও সি দাখিল করতে হবে। যদি এনও সি না থাকে তাহলে তাকে শুল্ক পরিশোধ করেই খালাস নিতে হবে।
 
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ অনুসরণ না করে শুধুমাত্র প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের একটি চিঠির কারণে বেনাপোল বন্দরে ৫০ কোটি টাকার মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান আটকে থাকায় সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে অমদানি নীতি অনুসরণ করে আটক থাকা  মৎস্য, হাস মুরগী ও পশু খাদ্যের চালান খালাস দেয়া জোর দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য কাস্টমস এর সাথে এনিয়ে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের একাধিক বৈঠক হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
 
ইত্তেফাক/জামান