কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে যশোরের বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বৈধ পথে ভারত থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ গরু আসতে থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন দেশি খামারিরা। তারা এ বছর গরু ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
শার্শা উপজেলায় এ বছর ৫৬ হাজার পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এর বিপরীতে উপজেলায় কোরবানি ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে ৫৫ হাজার পশুর। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তার পরেও ভারতীয় গরু ব্যাপকভাবে আসা শুরু হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে খামারিরা।
শার্শার উপজেলার ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। এ সীমান্তের বেশিরভাগ স্থান জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। তবে যে সব স্থানে বেড়া দেয়া নেই, সেই সব পথে অনায়াসে গরু হেটে বাংলাদেশে চলে আসছে। আর যে পথে কাঁটাতারের বেড়া সেখানে নেয়া হচ্ছে ভিন্ন কৌশল। গরু-ছাগল মাঠে চরানোর নাম করে গেট দিয়েই পার করে দিচ্ছে ভারতীয়রা।
এ দিকে বৈধ পথে গরু, ছাগল ও ভেড়া আনার জন্য শার্শার কয়েকটি খাটালের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়। গত তিন বছর যাবত ভারতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএসএফের কঠোর হস্তক্ষেপে পুটখালী, অগ্রভুলট, দৌলতপুর ও গোগা এই চারটি খাটাল দিয়ে সীমিত সংখ্যক গরু আসতো। বর্তমানে এ চিত্র পাল্টে গেছে। এখন প্রতিদিনই এ পথে হাজার হাজার গরু আসা শুরু হয়েছে। যা দিন দিন বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
যশোরের নাভারণস্থ পশু শুল্ক করিডোর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে শার্শার বিভিন্ন করিডোর দিয়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় এক হাজার ৬৭০টি ভারতীয় গরু ও ৩২০টি ছাগল এসেছে। এ অফিসে দায়িত্বরত কাস্টমস এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুমা মনি জানান, শার্শা সীমান্তের চারটি পশুহাট পুটখালী, অগ্রভুলট, দৌলতপুর ও গোগা দিয়ে যে পশু আসে নাভারণ করিডোরে তার ভ্যাট আদায় করা হয়। হিসাব করে দেখা গেছে, বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন দুইশ' থেকে ২৫০টি ভারতীয় পশু সীমান্ত পার হয়ে এদেশে আসছে। ঈদ সামনে রেখে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়দেব কুমার সিংহ জানান, সীমান্ত পথে প্রতিদিন দুইশ' থেকে তিনশ' পশু আসে, তবে সেটা স্বাভাবিক। তবে দৈনিক হাজার হাজার পশু এলে দেশি পশুর খামারিরা লোকসানে পড়বে। এটা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। এ অফিসের হিসাব মতে, কোরবানি উপলক্ষে শার্শা উপজেলায় ৫৬ হাজার পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ২২ হাজার, ছাগল ৩৩ হাজার ও ভেড়া রয়েছে এক হাজার। আর উপজেলায় কোরবানিতে ৫৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ উপজেলায় বাইরে থেকে কোন পশু আমদানি করা লাগবে না।
ইত্তেফাক/জামান